ছবি : নিজস্ব
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে লাখাই, বুল্লা ইউনিয়ন হাওরাঞ্চল বেষ্টিত এর মধ্যে বামৈ ইউনিয়নের কিছু অংশ মোড়াকরি হাওরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। মুড়িয়াউক, করাব, অল্প কিছু অংশে বোর মৌসুমে বোরো ধান আবাদ করেছে। প্রচণ্ড দাবদাহ ও রোদের মধ্যে হাওরের কৃষকরা ধান শুকিয়ে ঘরে তুলছেন। বিভিন্ন এলাকার ৮/১০ হাজারের বেশি শ্রমিক ধান কাটার কাজ করছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, লাখাই ১ লক্ষ ৪ হাজার হেক্টর জমি আবাদ হয়েছে। রবিবার (১২ মে) পর্যন্ত শতভাগ বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে। লাখাই, ও বুল্লা, ইউনিয়নের বড় বড় হাওরের শতভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে। এখন হাওরে চলছে ধান শুকিয়ে ঘরে তোলার কাজ। ধান শুকানোর পাশাপাশি দিন-রাত হাওরের প্রত্যেক বাড়িতে চলছে ধান সেদ্ধ দেওয়ার কাজ। ধান মাড়াইয়ের পর ধান সেদ্ধ দেওয়ার কাজ করেন বাড়ির নারীরা। বড় তেলের ড্রামে পরিমাণমতো পানি দিয়ে ধানের চিটা অথবা শক্ত লাকড়ি দিয়ে ধান সেদ্ধ দেওয়া হয়। এরপর পুনরায় শুকিয়ে চাল তৈরির উপযোগী করা হয়। ধান থেকে চাল করার যে প্রক্রিয়া সেটি একমাত্র হাওরের বিভিন্ন গ্রামে গেলেই চোখে পড়বে। সরেজমিনে হাওরে গিয়ে দেখা গেছে, হাওরের বেশির ভাগ এলাকার ধান কাটা শেষ। এখন চলছে ধান শুকিয়ে ঘরে তোলার প্রস্তুতি। এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় কৃষকরা স্বস্তিতে ঘরে ধান তুলতে পেরেছেন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও হাওরের বোরো ফসল কাটতে আসা শ্রমিকরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
লাখাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ তথ্যমতে, উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় ৮/১০ হাজার শ্রমিক ধান কাটার কাজ করতে লাখাই উপজেলায় এসেছেন। তার মধ্যে প্রায় ৮/৯ হাজার শ্রমিক হাওরাঞ্চলে ধান কাটতে এসেছেন। বর্তমানে ১৫/২০টি হারভেস্টার মেশিন ও রিপার মেশিন ধান কাটার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
উপকৃষি কর্মকর্তা অমিত ভট্টাচার্য জানান, এ বছর ব্রিধান ২৮,২৯ চাষে কৃষক ভাইদের নিরুৎসাহিত করেছি এর কারন এই দুইটি জাতের ব্লাষ্ট রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী।এই দুইটি জাতের পরিবর্তে আমরা বিকল্প জাত হিসেবে ব্রিধান ৮৮৷ ৮৯ ৯২, ও বিনা ২৫ আবাদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। ফলন ভাল হয়েছে।
লাখাই উপজেলা কৃষি অফিসার বলেন, কৃষিবিদ মোঃ মাহমুদুল হাসান মিজান আরো জানান, এ বছর উপজেলায় বোরো ধান আবাদে লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০৪৩৬ মেট্রিক টন। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে ১৮ হাজার মেট্রিক টন ধান উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আমি আশাবাদী। গত বছর আমাদের লক্ষ্য মাত্রা ছিল ১০ হাজার ১শত ৩৯ হেক্টর কিন্তু গত বছর থেকে এ বছর ১১ শ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের আওতায় আনতে পেরেছি। এ বছর হাইব্রিড ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
আবহাওয়া ভালো থাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে কৃষকরা ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। লাখাই, বুল্লা, বামৈ হাওরের ১০০% জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। নন হাওর মোড়াকরি, মুড়িয়াউক, করাব ৭৫% ধান কাটা হয়েছে। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরোধান ভাল ফলন হওয়ায় এ বছর লক্ষ্য মাত্রা থেকে বেশী বোরোধান উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আবহাওয়া অনুকূলে বা রৌদ্র থাকলে ৫/৬ দিনের মধ্যেই হাওরাঞ্চলে ধান শুকানোর সিদ্ধ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন স্হানীয় কৃষকরা।
এম সি




