ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জে কোটা আন্দোলন ইস্যুতে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের মামলায় আত্মগোপনে রয়েছেন জামায়াত-বিএনপি নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে।
কোটা বিরোধী আন্দোলন নিয়ে ১৮ ও ১৯ জুলাই হবিগঞ্জের ৭টি উপজেলায় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। ভাঙচুর করা হয় জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ও যানবাহন। সংঘর্ষে ৮৫ জন পুলিশ সদস্যসহ ৪ শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হয়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পৃথক ৭টি মামলা করেছে পুলিশ। যেগুলোতে আসামী করা হয়েছে জামায়াত, বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের। এরই মধ্যে ৪০ জনকে গ্রেপ্তারও করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মামলা দায়েরের পর থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে জামায়াত ও বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ১৯ জুলাই সন্ধ্যার পর থেকে এসব রাজনৈতিক দলের কোন নেতাকে শহরে দেখা যায়নি। একই সাথে মামলায় অজ্ঞাত আসামী থাকায় কর্মীরা অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।মামলার আসামীদের নাম প্রকাশ করেত চায়নি পুলিশ।
তবে একটি সূত্র বলছে, আসামীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মেয়র জিকে গউছ, জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ্ রাজীব আহমেদ রিংগন, সাধারণ সম্পাদ জিল্লুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুর রহমান। এছাড়াও জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসবেকদলের শীর্ষ নেতারা রয়েছেন।
শনিবার দুপুরে শায়েস্তানগরে জেলা বিএনপির প্রধান কার্যালয় গিয়ে তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া পুরো এলাকাজুড়ে অনেকটা নিরবতা লক্ষ্য করা যায়।
এ বিষয়ে জানতে জিকে গউছের সাথে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সম্ভব হয়নি।
তবে জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ্ রাজীব আহমেদ রিংগন বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। যে কারণে গ্রেপ্তার এড়াতে নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে আছেন। অনেক নেতাকর্মীকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।’
পুলিশ সুপার আক্তার হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢুকে অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা নাশকতা চালিয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭টি মামলা হয়েছে। যেখানে ৫৭৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে ২৭৫০ জনকে। আমরা ইতোমধ্যে ৪০ জনকে গ্রেপ্তারও করেছি। বাকিদেরও গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান চলামান রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যেন, কোন সাধারণ শিক্ষার্থীকে আসামী করা না হয়। সেজন্য আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে দেখে সতর্কতার সাথে আসামী করেছি এবং গ্রেপ্তার করছি।
জৈন্তা বার্তা / টিটু




