আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ভারত পালিয়ে যেতে মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও জুড়ী সীমান্তে আত্মগোপন করেছেন- এমন গুঞ্জনে বিজিবি ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালাচ্ছে। তবে মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত বিজিবি ও পুলিশ নানকের সন্ধান পায়নি। রাতে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় অভিযান জোরদার করেছে।
জানা গেছে, শনিবার শ্রীমঙ্গলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা বিএম সিরাজুল ইসলামকে যৌথ বাহিনী আটকের পর অনেকের মুখে শোনা যায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ভারতে পালিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপন করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, তিনি বেশ কয়েকদিন ধরে ছদ্মবেশে শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান এলাকায় অবস্থান করেন। সীমান্ত অতিক্রম করতে না পেরে জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা ও ফুলতলা সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা চালিয়েও সফল হননি। এরপর থেকে বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের বড়াইল, কুমারশাইল, পাল্লাথল ও দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বোবারথল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ খুঁজছেন তিনি। তবে এ ব্যাপারে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
জানা গেছে, জাহাঙ্গীর কবির নানক জুড়ীর ফুলতলা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাচ্ছেন এমন খবরে সোমবার দুপুর থেকে ফুলতলা সীমান্ত এলাকায় অভিযান শুরু করে বিজিবি ও পুলিশ। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) দিপঙ্কর ঘোষ, জুড়ী থানার ওসি মেহেদী হাসান ও স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা।
বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন আহমদ জানান, অসমর্থিত সূত্র থেকে তিনিও এ ধরনের খবর পাচ্ছেন। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা তার কাছেও এ ব্যাপারে জানতে চাইছে। তিনি তার অবস্থান থেকে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।
সীমান্ত এলাকায় বিজিবি টহল জোরদার করেছে ও বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদি হাসান জানান, এ ধরনের একটি খবরে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। তল্লাশি অভিযান এখনও অব্যাহত আছে।
জৈন্তা বার্তা / আরআর




