ছবি:সংগৃহীত
বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব ও জলাতঙ্কের ঝুঁকি মোকাবিলায় কুকুর নিধনের পরিবর্তে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে ৩ হাজার ৭২৩টি বেওয়ারিশ ও মালিকানাধীন কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, কুকুর নিধন কোনো সমাধান নয়; বরং টিকাদানের মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি কমিয়ে নগরবাসীকে নিরাপদ রাখাই তাদের লক্ষ্য।
সিসিক ও সিলেট জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে গত ১২ অক্টোবর মাস ডগ ভ্যাকসিনেশন (এমডিভি) কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এরপর নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে ধাপে ধাপে এ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
টিকাদান শেষে প্রতিটি কুকুরকে গোলাপি রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিসিক সূত্র জানায়, এর মাধ্যমে টিকা দেওয়া কুকুর সহজে শনাক্ত করা যাবে। পাশাপাশি কোনো এলাকায় টিকাদান কার্যক্রমের বাইরে কুকুর রয়ে গেছে কি না, তা চিহ্নিত করতেও এ পদ্ধতি সহায়ক হবে। ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য কার্যক্রমেও এ তথ্য কাজে লাগবে।
কর্মসূচি প্রসঙ্গে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নগরীর বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র উচ্ছিষ্ট ও পরিত্যক্ত খাবার ফেলে রাখার কারণে বেওয়ারিশ কুকুরের আনাগোনা বাড়ে। বিশেষ করে বর্জ্য অপসারণের আগের সময়ে খাবারের সন্ধানে এসব স্থানে কুকুরের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। বাসাবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশেও তাদের বিচরণ রয়েছে।
তিনি বলেন, “এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জনস্বার্থ ও নাগরিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আমরা গণটিকাদানের উদ্যোগ নিয়েছি। কুকুর নিধন কোনো সমাধান নয়; বরং টিকাদানের মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি কমিয়ে নগরবাসীকে নিরাপদ রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
টিকা দেওয়া কুকুর কাউকে কামড়ালে বা আঁচড় দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রশাসক। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে বা অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সিটি করপোরেশন কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতাও প্রয়োজন।
সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগ থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। সেই দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে কুকুরের টিকাদান কর্মসূচি ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী। এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হওয়ায় সিলেট নগরবাসীর জলাতঙ্কের ঝুঁকি বহুলাংশে হ্রাস পাবে।”
কুকুর নিধনের পরিবর্তে টিকাদানের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও প্রাণিকল্যাণ নিশ্চিত করার এ উদ্যোগ নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে। তবে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে টিকাদানের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নাগরিক সচেতনতা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




