রাজনগরে আ.লীগের চেয়ারম্যান নিয়ে মুখোমুখি বিএনপির দুই পক্ষ
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন

রাজনগরে আ.লীগের চেয়ারম্যান নিয়ে মুখোমুখি বিএনপির দুই পক্ষ

নুরুল ইসলাম শেফুল, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১/১০/২০২৪ ১২:৫২:৪২ অপরাহ্ন

রাজনগরে আ.লীগের চেয়ারম্যান নিয়ে মুখোমুখি বিএনপির দুই পক্ষ

প্রতীকী ছবি


মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নকুল চন্দ্র দাসকে নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলেরর একটি অংশ চেয়ারম্যানকে দুর্নীতির দায়ে অপসারিত ও ছাত্র-জনতার ওপর হামলাকারী আখ্যায়িত করে বিক্ষোভ মিছিল ও সভার ডাক দেয়। রবিবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিক্ষোভ মিছিলের আগে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য কমরুদ্দীন আহমদ ও তার ছেলে পংকী মিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির একটি পক্ষ বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এ নিয়ে সোমবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে স্থানীয় মোকামবাজারে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নকুল চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা নিবন্ধনের অভিযোগ এনে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এর বিপক্ষে তিনি রিট পিটিশিন করে আবারও পদ ফিরে পান। এরই মাঝে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে চেয়ারম্যান নকুল চন্দ্র দাস আর ইউনিয়নে অফিস করতে পারেননি। সম্প্রতি এলাকায় গুঞ্জন ছড়ায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি কমরুদ্দিন আহমদের সহযোগিতায় ইউনিয়নে অফিস করছেন চেয়ারম্যান।

এর প্রতিবাদে বিএনপির সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন ও সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে রবিবার বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল ও সভার ডাক দেয়া হয়। বিক্ষোভ মিছিলে যাওয়ার আগে বিএনপির ইউনিয়ন সভাপতি কমরুদ্দিনকে আনতে যান কয়েকজন নেতাকর্মী। কিন্তু তিনি আসার সময় তার ছেলে পঙ্কি মিয়া এতে বাধ সাধেন। পরে পঙ্কি মিয়ার নেতৃত্বে তার লোকজন বিক্ষোভে জড়ো হওয়া লোকজনকে ধাওয়া দেন এবং ব্যানার কেড়ে নেন।

এ নিয়ে সোমবার ফের উত্তেজনা দেখা দিলে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। এদিকে উত্তেজনার খবর পেয়ে রাজনগর থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে।

বিক্ষোভ মিছিল ও সভার আয়োজনকারী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, বিক্ষোভে অংশ নেয়ার জন্য ইউনিয়ন সভাপতিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার আব্বাস আলী ফোন দিয়ে বলেছেন। আমাদের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে। এরপরও তিনি আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যানের পক্ষ হয়ে মিছিলে বাধা ও নেতাকর্মীদের মারধর করে ধাওয়া দিয়ে ব্যানার কেড়ে নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ফতেহপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কমরুদ্দিন আহমদ বলেন, আমি বিক্ষোভ মিছিলের বিপক্ষে নই। আমি বলেছি আজকে না করে সকলে আলোচনার মাধ্যমে সময় ঠিক করে তারপর মিছিল করা হবে। যারা দাওয়াত পায়নি তারা বাধা দিয়েছে।

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মোহাম্মদ মুবাশ্বির বলেন, বিএনপির দুই পক্ষের উত্তেজনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় কেউ আহত হওয়ার কোনো খবর এখনো পাইনি।

জৈন্তা বার্তা/আরআর