ছবি : সংগৃহিত
কেবল সন্দেহপ্রবণ স্ত্রীর কাছ থেকে বাঁচতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রিচি উচ্চ বিদ্যালয়ে বিয়ে না করেও সহকর্মী শিক্ষিকাকে তালাক দিয়েছেন এক শিক্ষক। এ ঘটনা জানাজানির পর এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ‘তালাকের নোটিস’ পাওয়া সহকারী শিক্ষিকা। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আদালতে মামলা করেছেন। তার দায়ের করা মামলায় শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের (৫৬) জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল রোববার দুপুরে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে জামিন চাওয়া হলে তিনি তা নাকচ করে দেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফয়সল আহমেদ জানান, বিয়ে বা কোনো ধরনের সম্পর্ক না থাকার পরও তার মক্কেল রিচি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা কোহিনুর আক্তারকে নোটারি পাবলিকের নিকট এফিডেভিটমূলে তালাক প্রদান করেন আনোয়ার হোসেন। পরে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী এই এফিডেভিটের কপি কোহিনুর আক্তারকে দিলে তিনি সেটি হাতে পেয়ে অজ্ঞান হয়ে যান।
তিনি আরো জানান, এফিডেভিটের শত শত কপি এলাকায় বিলি করা হয়। এতে ওই শিক্ষিকার সন্তানদের বিয়ে নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। এ ব্যাপারে অভিযোগ দিলে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ওই শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করে।
অপরদিকে প্রতারণার শিকার হয়ে সামাজিকভাবে নিগৃহীত ওই শিক্ষিকা গত সোমবার হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের আদালতে মামলা দায়ের করেন।
বিচারক মামলাটি এফআইআর হিসেবে রুজু করার আদেশ দিলে হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ শুক্রবার আনোয়ার হোসেন নামের ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে। বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনক। শিক্ষিকা কোহিনুর আক্তার বিধবা। তার এক মেয়ে বিবাহিত ও এক ছেলে অবিবাহিত। পাঁচ মাস আগে আনোয়ার হোসেন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে অ্যাফিডেভিট করে কোহিনুর আক্তারকে তালাক দেন। অথচ তাদের মাঝে কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক নেই। অ্যাফিডেভিটের কপি আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী কোহিনুর আক্তারের নিকট দিয়ে তার স্বামীকে যাতে হয়রানি না করা হয় তার জন্য হুঁশিয়ারি দেন।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি আনোয়ার হোসেনকে শোকজ নোটিস দেন। তিনি এর জবাবে বলেন, তার স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ ও সন্দেহপ্রবণ।
স্ত্রীকে বুঝ দিতেই অ্যাফিডেভিট করে স্ত্রীর হাতে এনে দিয়েছিলেন। এই জবাবে সন্তুষ্ট না হয়ে সম্প্রতি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
SH




