হবিগঞ্জে স্কুলছাত্রী হত্যায় দুই জনের মৃত্যুদণ্ড
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৩ PM

হবিগঞ্জে স্কুলছাত্রী হত্যায় দুই জনের মৃত্যুদণ্ড

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১/০৯/২০২৩ ০৩:৪৫:৫৯ AM

হবিগঞ্জে স্কুলছাত্রী হত্যায় দুই জনের মৃত্যুদণ্ড

ছবি : সংগৃহিত


প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় হবিগঞ্জে স্কুলছাত্রী মদিনাতুল কুবরা জেরিন হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হবিগঞ্জের নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক সুদীপ্ত রায় এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, জাকির হোসেন (২৫) ও নুর হোসেন (২২)।

রায় প্রদানকালে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জাকির হোসেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ধল গ্রামের দিদার হোসেনের ছেলে। আসামি নুর আলম একই উপজেলার পাটলি গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত ১-এর স্টেনোগ্রাফার পার্থ প্রতীম সেন জানান, মামলায় ২১ সাক্ষীর স্বাক্ষরগ্রহণ শেষে বিচারক এ রায় দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ধল গ্রামের আব্দুল হাইয়ের কন্যা মদিনাতুল কুবরা জেরিন ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি সকাল ৮টায় নূর আলম নামে একজনের অটোরিকশায় উঠে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। এর আগেই অটোরিকশায় ছিলেন জাকির ও তার সহযোগী নুর। অটোরিকশাটি জেরিনের স্কুল পেরিয়ে গেলেও তাকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছিল না। সে নামার চেষ্টা করলে জেরিনের সাথে ধস্তাধস্তি শুরু হয় অপহরণকারীদের। এক পর্যায়ে সে অটোরিকশা থেকে লাফ দিলে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পায়।

পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকি তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ জানুয়ারি তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় রাতে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন জেরিনের বাবা। এ ঘটনায় নুর হোসেন ও জাকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে ১৬৪ ধারায় তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয় তারা।

মূলত প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সিএনজি অটোরিকশা থেকে ফেলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় জেরিনকে।

পরে এ ঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হবিগঞ্জ সদর থানার তৎকালীন ওসি মাসুক আলী ২০২১ সালের ১৮ মার্চ জাকির, নুর হোসেন ও রুবেল মিয়া নামে তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। রুবেল অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় অন্য আদালতে তার বিচার কার্যক্রম চলছে।

মামলায় ২৩ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ২১ জনের স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিজ্ঞ বিচারক অপহরণের অপরাধে উভয় আসামিকে যাবজ্জীবন ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং হত্যার অপরাধে উভয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ প্রদান করেন। 

বাদী পক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট চৌধুরী আশরাফুল বারি নোমান সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, রায়ে ন্যায়বিচার পেয়েছে জেরিনের পরিবার। অপরদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবি এডভোকেট নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তারা এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করবেন।

SH