ছবি : সংগৃহিত
সরকার পতনের এক দফা দাবিতে ঢাকার প্রবেশমুখ আমিনবাজারে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বিএনপির সমাবেশের নির্ধারিত স্থানে তৈরি করা মঞ্চ রাতের অন্ধকারে পুলিশের পক্ষ থেকে ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল রাত ২টার দিকে পুলিশের পক্ষ থেকে মঞ্চটি ভেঙ্গে ফেলা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক।
খন্দকার আবু আশফাক বলেন, "আমাদের আজকের সমাবেশ আমরা স্থগিত করেছি। বিকেল তিনটায় আমাদের মিটিং রয়েছে, মিটিংয়ে সমাবেশের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হবে।"
অন্যদিকে মঞ্চ ভেঙ্গে ফেলা প্রসঙ্গে খন্দকার আবু আশফাক বলেন, ‘৪ দিন আগে থেকে আমাদের এই সমাবেশের দিন ঠিক করা রয়েছে। জেলা পুলিশ সুপারের কাছ থেকে সমাবেশের জন্য মৌখিক অনুমতিও নেওয়া ছিল। এখন জেলা পুলিশ সুপার আমাদের জানিয়েছেন, যে স্থানে আমাদের সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল, সেটি বাদ দিয়ে অন্য স্থান বাছাই করতে।’
পুলিশের পক্ষ থেকে মঞ্চ ভেঙ্গে ফেলার ঘটনা 'ন্যাক্কারজনক' উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, "গতকাল রাত ২টার দিকে পুলিশ আমাদের মঞ্চটি ভেঙ্গে ফেলে। তারা আমাদের জানাতে পারত, আমাদের মঞ্চ আমরা সরিয়ে নিতাম। পুলিশ কেন ভাঙবে?"
সাভার থানার ওসি ফোর্স নিয়ে মঞ্চ ভাংচুর করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা জেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায়।
তিনি বলেন, সাভার থানার ওসি রাত দেড়টার দিকে আমাকে ফোন করে বলেন, আপনারা আগামীকাল (সোমবার) সমাবেশ করতে পারবেন না, আমরা সমাবেশের মঞ্চ ভেঙে দিচ্ছি। আমি ওসিকে জিজ্ঞেস করলাম- রাত ১০টার দিকে পুলিশ গিয়ে মঞ্চ তৈরির স্থান পরিদর্শন করেছে। তখন তো পুলিশ কিছু জানায়নি। রাত দেড়টার দিকে কেন মঞ্চ ভেঙে দেয়ার কথা বলছেন। ওসি বলেন, আওয়ামী লীগ সমাবেশ করতে পারেনি, আপনারাও এখানে সমাবেশ করতে পারবেন না।
‘এছাড়াও সমাবেশ নির্ধারিত জেনে ইতোমধ্যেই আমাদের নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এখন এসে হঠাৎ করে নতুন স্থান নির্বাচন করা তো কষ্টকর। যাইহোক, আমরা আমাদের আজকের সমাবেশ স্থগিত করেছি, বিকালে মিটিংয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’-যোগ করেন তিনি।
সকালে সাভারের আমিনবাজার এলাকায় বিএনপির সমাবেশস্থল ঘুরে দেখা যায় ছোট মাঠটিতে কয়েকটি বাঁশ ব্যতিত কিছু নেই।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল রাত ২টা পর্যন্ত মঞ্চ তৈরির কাজ করে বিএনপির লোকজন। সকালে এসে তারা দেখেন সেখানে কোন মঞ্চ নেই।
অন্যদিকে সকাল থেকে বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে সমাবেশস্থলে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সহ ব্যাপক সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
পুলিশের বিরুদ্ধে মঞ্চ ভাঙ্গার অভিযোগ প্রসঙ্গে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) আব্দুল্লাহ হেল কাফী বলেন, ‘পুলিশের বিরুদ্ধে বিএনপির মঞ্চ ভেঙ্গে দেওয়ার এই অভিযোগটি হাস্যকর।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশের কোন অনুমতি ছিলো না। তাছাড়া একইস্থানে আওয়ামী লীগও সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিলো। দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে এই আশংকা থেকে এখানে আমাদের পর্যাপ্ত সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ আমিনবাজারে বিএনপির সমাবেশে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বেগম সেলিমা রহমানের উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
SH




