ছবি : সংগৃহীত
শেরপুরের শ্রীবরদীতে আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান মিন্টুকে (৪৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে শ্রীবরদী পৌর শহর থেকে তাকে গ্রেফতার করে শ্রীবরদী থানা পুলিশ। গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলার ৪নং এজহারভুক্ত আসামি তিনি।
মিজানুর রহমান মিন্টু ১৯৮৯ সালে শ্রীবরদী কলেজ শাখার ছাত্রলীগের প্যানেলের সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ও ১৯৯১ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমান মিন্টু দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত। ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। তিনি টেঙ্গরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী হিসেবে চাকরি করেন।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নৌকার মনোনীত এমপি এমএ বারীকে দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে চাকরি নেয় তিনি। অভিযোগ আছে, দলের ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিদ্যালয়ে না গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে মাসের পর মাস বেতন উত্তোলন করতেন। এমনকি তিনি বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল কোনো কাজ করতেন না। বিদ্যালয়ের কেউ কিছু বললে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় নামে-বেনামে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করতেন। তার ভয়ে তটস্থ ছিলো বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মিন্টু তার পদ-পদবী ব্যবহার করে বিভিন্ন লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করতেন। তিনি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়েও প্রভাব বিস্তার করতো। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ে উত্থাপিত হলে সর্বসম্মতিক্রমে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিগত সময়ে চেক জালিয়াতির মামলায় জেল খেটেছেন তিনি।
তার আটকের খবরে হয়রানির শিকার লোকজনের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিম দুলাল বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে মিন্টু বিএনপির রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের নামে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাত। তার উপযুক্ত বিচার হওয়া দরকার।
থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার জাহিদ বলেন, বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় মিন্টু নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তাকে শেরপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




