তাহিরপুরে সক্রিয় বালুখে*কো চক্র : হু*মকির মুখে বসতবাড়ি
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১২ PM

তাহিরপুরে সক্রিয় বালুখে*কো চক্র : হু*মকির মুখে বসতবাড়ি

রোকন উদ্দিন, তাহিরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩/০৫/২০২৫ ০১:২৪:৫৫ AM

তাহিরপুরে সক্রিয় বালুখে*কো চক্র : হু*মকির মুখে বসতবাড়ি


সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলায় যাদুকাটা নদীর বালুমহাল আইনি জটিলতায় বন্ধ থাকলেও থেমে নেই লাউড়েরগড় ছড়ার পাড়ের বালুখেকোরা। তারা রাতের আঁধারে ড্রেজার এবং দিনের বেলায় ভেকু মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তাদের বাড়ির সামনে এবং পেছনে হাজার হাজার ফুট বালু জমা করে রেখেছে। 

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, আবাহমান কাল থেকে উত্তর মুকশেদপুর থেকে লাউড়েরগড় আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের পাশ হয়ে যাদুকাটা নদীতে পতিত হয়েছে ছড়াটি। কিন্তু ইদানীং কতিপয় দুষ্কৃতকারী এই ছড়াটি থেকে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ার ফলে হুমকির মুখে পড়েছে ছড়ার পাড়ের বসতবাড়িসহ পঞ্চাশ গজ দূরে থাকা একমাত্র উচ্চবিদ্যালয়টি। 

স্থানীয়রা বলেন, এই ছড়াটি থেকে বালু উত্তোলনের ফলে পাহাড়ি ঢল যখন যাদুকাটা নদী দিয়ে প্রবাহিত হবে, তখন ছড়াটি দিয়ে পানি প্রবেশ করে উত্তর মুকশেদপুর, দক্ষিণ মুকশেদপুর, পূর্ব লাউড়েরগড় থেকে পশ্চিম লাউড়েরগড়সহ বিস্তীর্ণ এলাকার শত শত একর জমির ধান তলিয়ে যেতে পারে। এছাড়া পলি পড়ে আবাদি জমিগুলো চাষাবাদের অনুপযোগী হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। 

গ্রামবাসী বলেন, আমরা এ ব্যাপারে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি। অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত বালুগুলো জব্দ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছড়ার পাড়ের এক ভুক্তভোগী বলেন, এখানে ড্রেজার দিয়ে ও ভেকু মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেছেন ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা বিলাল মিয়া, শাহেন শাহ, রতন, হাদিস, সাদ্দামসহ তাদের সিন্ডিকেটের লোকজন। আমরা এই বালুখেকোদের হাত থেকে মুক্তি চাই। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। 

তবে যুবলীগ নেতা বিলাল মিয়া বলেন, আমি কোনো বালু উত্তোলন করিনি। আমার কোনো বালু জমাও নেই। আমি ব্যবসা করি। এখানে আমি শুধু একা না, বালু স্টক করেছেন রব্বানী, রয়েল, জাহাঙ্গীরসহ আরও অনেক ব্যবসায়ী। 

তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হাসেম বলেন, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় যাদুকাটা নদীর বালুমহাল এখন বন্ধ রয়েছে। অবৈধভাবে যদি কেউ বালু উত্তোলন করে জমা করে রাখে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, যদি কেউ রাতের আঁধারে ড্রেজার বা ভেকু মেশিন চালায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জৈন্তা বার্তা/আরআর



শীর্ষ সংবাদ: