ছবি: নিজস্ব
শ্রীমঙ্গলে কুকুরের আক্রমণ থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় বিপন্ন প্রজাতির একটি লজ্জাবতী বানরকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বুধবার (২৮ মে) সুস্থ ও সবল বানরটিকে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন। এর আগে মঙ্গলবার (২৭ মে) গভীর রাতে সাতগাঁও লছনা এলাকা থেকে বানরটি উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও লছনা এলাকায় মঙ্গলবার গভীর রাতে একটি রহস্যময় প্রাণীর উপস্থিতি নিয়ে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। রাত আনুমানিক ১টার দিকে কুকুরদের অস্বাভাবিক ডাক-চিৎকারে ঘুম ভাঙে স্থানীয়দের, যা উদ্বেগের সৃষ্টি করে। আতঙ্কিত এলাকাবাসী প্রথমে গরু চুরির সন্দেহে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। তারা দেখতে পান, বেশ কয়েকটি কুকুর একটি অজ্ঞাত প্রাণীকে ঘিরে রেখে তীব্রভাবে ঘেউ ঘেউ করছে। প্রাণীটি যখন আটকে পড়ার শঙ্কায় আক্রমণাত্মক আচরণ শুরু করে এবং কয়েকজনকে কামড়ে দেয়, তখন পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয়রা শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে রাত গভীর হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ফাউন্ডেশন ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। বুধবার সকালেই ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীটিকে পর্যবেক্ষণ করেন এবং নিশ্চিত করেন, এটি একটি লজ্জাবতী বানর (Slow Loris), যা বাংলাদেশের বিরল ও সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীদের মধ্যে অন্যতম।
পরদিন সকালে স্বপন দেব ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন। তিনি বলেন, ‘অবাধে পাহাড়-জঙ্গল কাটার ফলে বন্যপ্রাণীদের খাদ্যসংকট দেখা দিচ্ছে। ফলে তারা লোকালয়ে চলে আসছে।’
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানান, লজ্জাবতী বানর নিশাচর ও লাজুক প্রকৃতির প্রাণী। বনাঞ্চল ধ্বংস ও খাদ্যের সংকটের কারণে এরা মাঝে মাঝে লোকালয়ে প্রবেশ করে। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন এলাকাবাসীকে এ ধরনের প্রাণী দেখতে পেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। যাতে প্রাণীটি নিরাপদে উদ্ধার ও সংরক্ষণ করা যায়।
জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার




