ছবি : সংগৃহীত
সুনামগঞ্জে হাওর জলাভূমি ভরাট ও পরিবেশের ক্ষতি না করে উঁচু ভূমিতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে পাঁচটি পরিবেশবাদী সংগঠন যৌথভাবে মানববন্ধন করেছে। মঙ্গলবার ( ১৬ সেপ্টেম্বর ) বেলা ১১টায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলফাত স্কয়ার ( ট্রাফিক পয়েন্টে ) ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
![]()
আন্তঃউপজেলা অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক আফিন্দির সভাপতিত্বে এবং পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাঈদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র সভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈয়বুর রহমান বাবুল, হাওর, নদী ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মিজানুর রহমান রাসেল, পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি আবু নাসার, পরিবেশবাদী সংগঠন হাউস’র নির্বাহী পরিচালক সালেহীন চৌধুরী শুভ এবং জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ উন্নয়ন ফোরাম সিলেট’র সভাপতি আবুল হোসেন প্রমুখ।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক জেলা আহ্বায়ক ও যুবশক্তি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইমনুদ্দোজা আহমদ এবং জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ইজাজুল হক চৌধুরী নাছিম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, হাওর জেলা সুনামগঞ্জের সবচেয়ে বড় ফসলি হাওর ‘দেখার হাওর’, যা ছাতক, দোয়ারাবাজার, শান্তিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত। এই হাওরে মহাসিং নদী এবং এর শাখা-উপশাখা, অসংখ্য জলমহাল, খাল, বিল, নদী মিলিয়ে অর্ধশতাধিকেরও বেশি জলাশয় রয়েছে। এখানে আবাদি জমির পরিমাণ ৪৫ হাজার ৮৫৯ হেক্টর, যার মধ্যে কৃষি জমি ২৪ হাজার ২১৪ হেক্টর এবং অকৃষি জমি ২১ হাজার ৬৪৫ হেক্টর। সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাওরের একাংশে (শান্তিগঞ্জের জয়কলস মৌজায়) ১২৫ একর বোরো জমি (আংশিক আমন, পতিত ও গুরস্তান) অধিগ্রহণ করতে চাইছে। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস করার পরিকল্পনা, সেখান দিয়ে নাইন্দা নদী ও আহসানমার নদী প্রবাহিত হয়েছে এবং দুটি সেতুর (আহসান মারা ও জয়কলস) নিচ দিয়ে হাওরের পানি কালনী নদীতে গিয়ে মিশেছে।
পরিবেশ আন্দোলনের নেতারা আরও বলেন, হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্থাপন করতে হবে। হাওর ভরাট করে বিশাল ক্যাম্পাস তৈরি হলে বৃহৎ এই হাওরের জলজ বাস্তুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দুটি সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়া খালে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে বোরো জমি ও জলাশয়ের ব্যাপক ক্ষতি হবে, যার নেতিবাচক প্রভাব সুনামগঞ্জ জেলা সদরসহ পূর্ব এলাকার জনবসতির উপর পড়বে।
উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর পাস হয়। সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর ১২৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান শুরু হয়। জেলা শহর সুনামগঞ্জ থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ভাড়া করা ভবনে এটির প্রশাসনিক ও পাঠদান কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে ১৭ জন শিক্ষক এবং ২৭ জন স্টাফ রয়েছেন।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৩ জুন সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জিএম শহিদুল আলম সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসককে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠির সূত্র উল্লেখ করে জানান যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ১২৫ একর জমির প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করেছে। এরপর জেলাবাসী ও পরিবেশ কর্মীদের আন্দোলন এবং একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জমি অধিগ্রহণের কাজ স্থগিত রয়েছে।
জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার




