ছবি নিজস্ব
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর নদীর ওপর গুদামের সামনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে নির্মাণাধীন দৃষ্টিনন্দন আর্চ সেতুর কাজ ধীরগতিতে চলছে। সেতুটির নির্মাণকাজের মেয়াদ দুই দফা বাড়িয়েও কাজ শেষ হয়নি। দৃষ্টিনন্দন এ সেতুটি সিলেট বিভাগের প্রথম আর্চ সেতু। রাজধানীর হাতিরঝিলের আদলে সেতুটি নির্মাণ হচ্ছে। বহুল প্রত্যাশিত এ সেতুর নির্মাণকাজে ধীরগতির ফলে উপজেলাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলা সদরে নলজুর নদীর ওপর ১৯৮৬ সালে গুদামের সামনে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ১৯৮৮ সালে এলাকাবাসী ও এলজিইডি'র মাধ্যমে নলজুর নদের ডাকবাংলোর সামনে আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৯ সালে জগন্নাথপুর উপজেলা সদর পৌরসভায় রূপান্তরিত ও শহরের ওপর দিয়ে পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক চালু হওয়ায় শহরে যানজটের ব্যাপকতা ও নাগরিক ব্যস্ততা বাড়তে থাকে। সরু এ দুটি সেতু দিয়ে চলাচল দুরূহ হয়ে ওঠে। যার প্রেক্ষিতে গুদামের সামনের সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
রাজধানীর হাতিরঝিলের আদলে দৃষ্টিনন্দন আর্চ সেতুটির ৬০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১১.২৫ মিটার প্রস্থ থাকবে। সেতুটির দুই পাশে থাকবে ফুটপাত ও আলোকসজ্জা। সেতুর মধ্যস্থলে কোনো পিলার নেই। নৌ—চলাচলের সুবিধায় উঁচু ফাঁকা জায়গা থাকবে। দুই পাশে অ্যাবাটমেন্টের মাধ্যমে ইস্পাত দিয়ে সেতুটি দৃষ্টিনন্দন হিসেবে দৃশ্যমান হবে।
২০২৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ—৩ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সেতুটির নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি এই সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেতুর ৫০ শতাংশ কাজ অসমাপ্ত রয়ে গেছে। সর্বশেষ জানা গেছে, কাজটি শেষ হবে আগামী বছরের এপ্রিলে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক এম এ কাদির বলেন, উপজেলা সদরের দুটি সেতু একসঙ্গে অচল হওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উপজেলাবাসী। মেয়াদ শেষ হলেও আর্চ সেতুর কাজ শেষ না হওয়া খুব দুঃখজনক। আর ডাকবাংলো সেতুর নির্মাণকাজেরও কোনো খবর মিলছে না।
তিনি বলেন, বিগত দিনে অপরিকল্পিতভাবে সেতুর কাজ শুরু করায় নাগরিক দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী, কোরেশী টেলিকম অ্যান্ড শো-রুমের সত্ত্বাধিকারী মাওলানা মারজান কোরেশী বলেন, আসল সমস্যা হচ্ছে জনগণের দুর্ভোগের ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের নজর নেই। তারা জনবান্ধব হলে জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কাজটি যথাসময়ে শেষ করার ব্যাপারে উদ্যোগী হতো।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার সাইফুল আলম জানান, কার্যাদেশ পাওয়ার আট মাস পর কাজ শুরু করতে হয়েছে। নির্মাণাধীন সেতুর পাশে বিদ্যুতের তার ও খুঁটি এবং পুরোনো সেতু অপসারণ করতে সময় লেগেছে। এছাড়া বর্ষাকালে নদীতে পানি আসার কারণে কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই সেতুর কাজ শেষ করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে এখন পুরোদমে কাজ চলছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. সোহরাব হোসেন বলেন, নানা সীমাবদ্ধতায় সেতুর নির্মাণকাজ বিলম্বিত হয়েছে। ইতোমধ্যে সেতুটির প্রায় ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে সেতুটি দৃশ্যমান হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী বছরের এপ্রিল পর্যন্ত কাজের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




