ছবি:সংগৃহীত
‘বাংলাদেশের মালিক দেশের জনগণ’এ কথা তুলে ধরে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সল বলেছেন, বিএনপি সর্বদা মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সকলেই এই দেশের সমান নাগরিক, তাই কারও মনে যেন অবহেলা, ভয় বা নিপীড়নের আশঙ্কা না থাকে-এটাই বিএনপির নীতি।
সোমবার সন্ধ্যায় মাধবপুরের বেলঘর গ্রামে বিশ্বমঙ্গল হরিনাম সংকীর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মানুষকে বিভক্ত করতে চাই না। বাংলাদেশ সবার, বাংলাদেশের মালিক জনগণ। আমরা আপনাদের আপনজন, আপনাদের পাহারাদার হিসেবে সবসময় পাশে থাকতে চাই।’
তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালে দেশে সরকার পরিবর্তনের পর মাধবপুর-চুনারুঘাট এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বী কোনো ব্যক্তি অত্যাচার, নির্যাতন, জুলুম বা সম্পত্তি দখলের ঘটনার শিকার হয়নি। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা সতর্কতার সঙ্গে পাশে থেকে সনাতন সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘কেউ যদি দুষ্কৃতী হয়ে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করতে চায়, আমরা কঠোরভাবে দমন করেছি। মানুষের নিরাপত্তা আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।’
গত দুর্গাপূজায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন পুজামণ্ডপ পরিদর্শনের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। ফয়সল বলেন, উৎসব মানেই আনন্দ-এই আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে বিএনপি সবসময় আন্তরিক ভূমিকা রেখেছে। ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষাই শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের ভিত্তি।
বক্তব্যে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, তাঁরই সুযোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান দেশের রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের জন্য যে ৩১ দফা কর্মসূচি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে সমতা, ন্যায়বিচার ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, ‘এই ৩১ দফায় ধর্মীয় স্বাধীনতা, সামাজিক নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার ও সাংবিধানিক ভারসাম্য পুনর্গঠনের স্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা সেই বাংলাদেশ চাই যেখানে কেউই নিজেকে অবহেলিত বা দুর্বল ভাববে না।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ মোঃ শাহজাহান, বিএনপি নেতা একলাছুর রহমান, বাবুল রায়সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য রক্ষায় বিএনপি অতীতেও কাজ করেছে, ভবিষ্যতেও করবে।
অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী, আওয়ামী ও বিএনপির সাধারণ সমর্থক, তরুণ-যুবক সহ সব বয়সী মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। তারা সৈয়দ মোঃ ফয়সলের বক্তব্যে হাততালি দিয়ে সমর্থন জানান এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে এমন উদ্যোগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




