ছবি:সংগৃহীত
হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জননেতা সৈয়দ মোঃ ফয়সলের সমর্থনে আন্দিউড়া ইউনিয়নে নির্বাচনী সভা অনুষ্টিত হয়েছে। শুক্রবার রাতে আন্দিউড়া চকবাজারে বিএনপি সভাপতি কাইয়ুম মেম্বারের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্টিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ মোঃ ফয়সল বলেন, নির্বাচিত হলে মাধবপুর ও চুনারুঘাটকে একটি ‘মডেল উপজেলা’ হিসেবে গড়ে তুলবেন। তিনি বলেন, আমি আপনাদের সন্তান হিসেবে আপনাদের পাশে থাকতে চাই। উন্নয়ন, সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রতিশ্রুতি।’
তিনি পাঁচটি মূল প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন-বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রাস্তাঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সংখ্যালঘুসহ সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এছাড়া সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথাও ঘোষণা করেন।তিনি বলেন,আমরা ভাল মানুষ নিয়ে সুন্দর সমাজ গড়তে চাই।আল্লাহ আমাকে বাচিয়ে রেখেছেন জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মানুষের সেবা করতে চাই। তিনি বলেন,মাধবপুর চুনারুঘাটে কোন চাঁদাবাজি ও অন্যায় অত্যাচার চলবেনা।
জনসভায় স্থানীয় উন্নয়নের পাশাপাশি বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন তিনি বলেন, ‘৩১ দফা জনগণের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার একটি জাতীয় অঙ্গীকার।’
ফয়সল বলেন, তিনি কোনো পদ-পদবি নয়, মানুষের সেবা করার অভিপ্রায় নিয়েই নির্বাচন করতে এসেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমার ব্যক্তিগত কোনো অভাব নেই। তবে একটি অপূর্ণ সাধ-আপনাদের পূর্ণাঙ্গ সেবা করা। আপনারাই আমার শক্তি, আপনারাই আমার মর্যাদা।’
তিনি ঘোষণা দেন, নির্বাচিত হলে তাঁর কাছে যেতে কাউকে অনুমতি বা প্রটোকল লাগবে না। মানুষের সমস্যা সমাধান করাই হবে তাঁর প্রথম দায়িত্ব। তিনি বলেন, এই এলাকা কোনো একটি দলের নয়; এখানে বসবাস করেন বিভিন্ন মত, বিশ্বাস ও পেশার মানুষ। তাই উন্নয়ন হবে সবার জন্য। প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি তাদের আর্থিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এলাকার সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে বেকারত্বকে চিহ্নিত করেন ফয়সল। তিনি বলেন, ‘যুবকদের স্বপ্ন আছে, দক্ষতা আছে, কিন্তু সুযোগ নেই। শহরে ঘুরে ঘুরে চাকরি খুঁজতে হচ্ছে।’ এ অবস্থায় যুবকদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, এবং এলাকায় নতুন শিল্প উদ্যোগ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য মাধবপুর-চুনারুঘাটকে একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তর করা, যেখানে সম্মানজনক কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে স্থানীয়ভাবেই। পাশাপাশি শিক্ষা খাতে প্রতিটি স্কুলে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি এবং শিক্ষা-সহায়তা বৃদ্ধির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
কৃষকের ন্যায্যমূল্যকে তাঁর প্রথম অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফসল ফলানোর মূল শ্রম কৃষকের, তাই ফলের আসল মূল্য তাঁর হাতেই পৌঁছাতে হবে।’ তিনি মধ্যস্বত্বভোগী চক্র ভেঙে কৃষকদের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি সনাতন ও মুসলিম সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথা স্মরণ করে বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করা রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি মানবিক নৈতিকতা। ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’-এই নীতিকে সামনে রেখে সবাইকে নিরাপদ রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি।
সমাবেশের শেষে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ মোঃ শাহজাহান, উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান হামদু, পৌর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আল রনি, যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফজলে ইমাম সুমন ও মোস্তফা কামাল। বক্তারা সবাই ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




