জগন্নাথপুরে অসময়ে তরমুজ চাষে সাফল্য
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৫:০০ AM

জগন্নাথপুরে অসময়ে তরমুজ চাষে সাফল্য

রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২/১২/২০২৫ ০১:৪১:৪৫ PM

জগন্নাথপুরে অসময়ে তরমুজ চাষে সাফল্য

ছবি নিজস্ব


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে অসময়ে তরমুজ চাষে মিলেছে বাম্পার ফলন। এতে চারদিকে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। এমনিতেই জগন্নাথপুরে আমন-বোরো ছাড়া অন্য কোনো ফলনের চাষাবাদ তেমন একটা হয় না। হলেও তা একেবারেই নগন্য। তার ওপর অসময়ে তরমুজ চাষ, তা ভাবা যায় না। এর ফলে প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুরে ক্রমান্বয়ে মানুষ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছেন।

আর এর নেপথ্যে রয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ ও তার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ। তারা মাঠে-ময়দানে ঘুরে ঘুরে ধানসহ বিভিন্ন ফসল আবাদে কৃষকদের নানাভাবে উৎসাহিত করছেন। তাদের আহবানে কৃষকেরাও সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসছেন। প্রয়োজনীয় পরামর্শসহ সরকারিভাবে সার-বীজসহ কৃষি উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। ফলে দিন দিন আবাদি জমির পরিমাণ বাড়ছে। এক সময়ের পতিত জমি আবাদের আওতায় আসছে। চাষাবাদে সাফল্য পাচ্ছেন কৃষকরা।

এমনই এক সফল কৃষকের নাম খলিল মিয়া। তিনি জগন্নাথপুর পৌর শহরের বলবল গ্রামের বাসিন্দা। পলিভরাট মইয়ার হাওরে এবার তরমুজ ও মিষ্টি লাউ চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছেন তিনি। প্রতিদিন তার আবাদকৃত জমির ফসল দেখতে মানুষ মইয়ার হাওরে ছুটে যাচ্ছেন। মইয়ার হাওরের পলিমাটি যেন সবুজের সমারোহ হয়ে উঠেছে। তরমুজ ও লাউ বাগানে গাছে গাছে ফসল ধরেছে। ফসল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে হাওরে।

কৃষক খলিল মিয়া জানান, গত বছর তিনি এখানে তরমুজ আবাদ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শ্রমিক সংকটে তা পারেননি। এবার আগে থেকেই শ্রমিক এনেছেন। আশ্বিন মাসের শুরুতে তিনি প্রায় ৬ কেদার জমিতে তরমুজ আবাদ করেন। পাশাপাশি সাড়ে ৭শ মিষ্টি লাউগাছ লাগান। প্রায় আড়াই মাস পর তরমুজ পাকতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে তিনি ৯৫ হাজার টাকার কালো তরমুজ বিক্রি করেছেন। পরে তিনি আরও ৬০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেন। আগামীতেও আরও অনেক তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন। এ পর্যন্ত জমি আবাদে তার ব্যয় হয়েছে আড়াই লাখ টাকা। খরচের টাকা তোলে তিনি অনেক লাভবান হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তরমুজের পাশাপাশি তার জমির লাউগাছেও আশানুরূপ ফলন ধরেছে। এতেও তিনি লাভবান হবেন। এ ছাড়া তার বাগানে চাষ করা হয়েছে সাদা তরমুজ, যা আগামী রমজান মাসে বাজারে আসবে।

জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ বলেন, অসময়ে তরমুজ আবাদ করায় ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষক খলিল মিয়া। ফলে তিনি লাভবান হচ্ছেন। তা দেখে অন্যান্য কৃষকেরাও এগিয়ে আসবেন বলে প্রত্যাশা করছি। এতে পতিত জমিগুলো আবাদের আওতায় আসবে। নতুন নতুন ফসল চাষাবাদের মাধ্যমে জগন্নাথপুরের কৃষকেরাও কৃষিবিপ্লবে ভূমিকা রাখতে পারবেন। খলিল মিয়ার মতো অন্য কৃষকেরা এগিয়ে এলে জগন্নাথপুরের উৎপাদিত কৃষিপণ্য দেশের অন্যান্য স্থানে রপ্তানি করে আর্থিক লাভবান হওয়া সম্ভব। তাহলে আমাদের কৃষি বিভাগের সকল চেষ্টা স্বার্থক হবে।

জৈন্তা বার্তা/আরআর