সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় সুরমা নদীর ভাঙনে তিন গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, গ্রামীণ রাস্তাঘাট, কবরস্থান, খেলার মাঠসহ শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কয়েকশ পরিবারের মানুষ। উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের আজমপুর, আশ্রাবনগর ও ইদনপুর গ্রামে তীব্র নদীভাঙন প্রতিরোধ সরকারি প্রকল্পের আওতায় না আনায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সুরমার তীব্র স্রোতে ইতোমধ্যে এই তিন গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, গ্রামীণ রাস্তাঘাট, কবরস্থান, খেলার মাঠসহ শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদসহ অর্ধশতাধিক বাড়ি-ঘর। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু চোখের সামনেই ভেঙে পড়ছে নদীগর্ভে। এভাবে চলতে থাকলে দেখা দেবে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। কিন্তু বারবার সংশ্লিষ্টদের জানানোর পরও কোনো কাজ হচ্ছে না।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোটি কোটি টাকার নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইদনপুর, আজমপুর ও আশ্রাবনগরকে রহস্যজনকভাবে প্রকল্পের বাইরে রেখে দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে অবিলম্বে উন্নয়ন বৈষম্য দূর করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তারা।
ভাঙনকবলিত এলাকার সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে শুক্রবার বিকেলে ভুক্তভোগীদের আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় তিনটি গ্রামের মানুষের কান্না থামাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রæত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাবা মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মান্নারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইজ্জত আলী তালুকদার, তাসনিম আলম মিজান, নজির উদ্দিন মাস্টার, আব্দুল হান্নান, সাবেক ইউপি সদস্য আজাদ মিয়া, এখলাছ মিয়া, এখলাছুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য দেন।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




