ছবি:সংগৃহীত
সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ২৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন ত্রুটির কারণে বাতিল হয়েছে ১৩ জনের মনোনয়নপত্র। জেলার পাঁচ আসনে মোট ৩৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
শনিবার সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে সাতজন দলীয় এবং ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর)
এ আসনে ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাইয়ে আয়কর সংক্রান্ত কাগজপত্র না থাকায় বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদার ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হাজী মুখলেছুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির আনিসুল হক ও কামরুজ্জামান কামরুল, জামায়াতে ইসলামীর তোফায়েল আহমদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রফিকুল ইসলাম।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই–শাল্লা)
এ আসনে সাতজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। স্বাক্ষরজনিত ত্রুটির কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঋতেশ রঞ্জন দেবের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির মো. নছির চৌধুরী ও তাহির রায়হান চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ শিশির মনির, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নিরঞ্জন দাস, খেলাফত মজলিসের মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের শোয়াইব আহমদ।
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর–শান্তিগঞ্জ)
এ আসনে নয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন- আয়কর বকেয়া থাকায় আমার বাংলাদেশ পার্টির সৈয়দ তালহা আলম, প্রস্তাবকারী ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র মাহমুদ আলী এবং এক শতাংশ ভোটারের তালিকায় ত্রুটির কারণে মো. মাহফুজুর রহমান খালেদ ও হুসাইন আহমেদ।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর মো. ইয়াসীন খান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ শাহীনুর পাশা চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের শেখ মুশতাক আহমদ ও স্বতন্ত্র মো. আনোয়ার হোসেন।
সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর–বিশ্বম্ভরপুর)
এ আসনে নয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না থাকা, সম্পদের বিবরণী না দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ভোটার তালিকা না দেওয়ার কারণে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। বাতিল প্রার্থীরা হলেন- খেলাফত মজলিসের মো. আমিরুল ইসলাম, এলডিপির মো. মাহফুজুর রহমান খালেদ ও স্বতন্ত্র মোহাম্মদ আবিদুল হক।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির নূরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মো. সামছ উদ্দিন, স্বতন্ত্র দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, জাতীয় পার্টির নাজমুল হুদা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহীদুল ইসলাম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আজিজুল হক।
সুনামগঞ্জ-৫
এ আসনে আটজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। ঋণখেলাপি, দলীয় চিঠি সংযুক্ত না থাকা এবং ভোটার তালিকায় ত্রুটির কারণে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। বাতিল প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপির মোহাম্মদ মুশাহিদ আলী তালুকদার এবং স্বতন্ত্র মো. সিরাজুল ইসলাম।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির কলিম উদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম, স্বতন্ত্র মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আজিজুল হক ও খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আবদুল কাদির।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, আপিল নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




