টাঙ্গুয়ার হাওরে চাষের নামে শতবর্ষী হিজল বন ধ্বংস
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০১:২৫ AM

টাঙ্গুয়ার হাওরে চাষের নামে শতবর্ষী হিজল বন ধ্বংস

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া

প্রকাশিত: ০৫/০১/২০২৬ ১২:৫৩:০৫ AM

টাঙ্গুয়ার হাওরে চাষের নামে  শতবর্ষী হিজল বন ধ্বংস

ছবি:সংগৃহীত


কৃষকের নাম ব্যবহার করে শতবর্ষী হিজল বন ধ্বংস করে চাষাবাদ করেছে একটি চক্র। এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রকৃতি, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। হিজল গাছ কেটে ও উঠিয়ে ফেলে অবৈধভাবে চাষাবাদ করার কারণে সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় সেই নিষেধাজ্ঞা কোনো কাজে আসছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। 

হিজল বনটি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার রংচি গ্রামের পাশে টাঙ্গুয়ার হাওরের ভেতরে অবস্থিত। অভিযুক্ত চক্রের উদ্দেশ্য এই জায়গা দখলে নেওয়া, আর সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কৌশলে এগিয়ে যাচ্ছে ওই চক্র। এর ফলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এভাবে চললে হিজল বাগানটিও আর থাকবে না। সে কারণে হিজল বাগান রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন সচেতন মহল। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বিতীয় রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলদের দায়িত্বহীনতা আর অব্যবস্থাপনায় চরম অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। হাওরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় রংচি হিজল বাগান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারিভাবে এই হিজল গাছ রোপণ করে বাগান করা হয়েছিল। ওই বাগানে ও তার আশপাশের জায়গায় চাষাবাদ শুরু করলে মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসন রংচি হিজল বাগানে সব ধরনের চাষাবাদ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র চাষের নামে শতবর্ষী হিজল গাছের শিকড় কেটে ফেলে জমি প্রস্তুত ও ফসল উৎপাদনের জন্য চাষাবাদে ব্যস্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল মোতালেব ও আমান মিয়াসহ অনেকে জানান, হিজল গাছগুলো রক্ষা করা খুবই প্রয়োজন। গাছগুলোর ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে সবাইকে। যাদেরকে লিজ দেওয়া হয়েছে, তাদের লিজ বাতিল করলে আর তারা সেখানে যেতে পারবে না, হিজল গাছের কোনো ক্ষতিও হবে না। 

পরিবেশ নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বলছেন, কোনোভাবেই প্রকৃতি, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে পড়তে দেওয়া যাবে না। রংচি হিজল বনের বিষয়ে প্রশাসন ভালোভাবে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছি।

এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় জানান, ওই বনের জমিতে যারা চাষাবাদ করেছেন তাদেরকে নিষেধ করার পর তারা চাষাবাদ বন্ধ রেখেছেন। আর যারা চাষাবাদ করেছেন তাদেরকে সরকারিভাবে ভ‚মিহীন হিসেবে জায়গা বন্দোবস্তের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছে আমি আসার অনেক পূর্বে। এ ছাড়া চাষাবাদ যেহেতু করেই ফেলেছে, তা তো আর মানবিক বিবেচনায় নষ্ট করা যাবে না। তবে এখন যেহেতু হিজল বনের ক্ষতি হচ্ছে, পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আবাসস্থল ব্যাহত হবে, হাওরের প্রকৃতি, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তাই তাদের বন্দোবস্ত বাতিল করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বাতিল করা হলে আর এই সমস্যা থাকবে না। 


জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ