ছবি:সংগৃহীত
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে সিলেট-৬ আসনের রাজনৈতিক চিত্র। কে হবেন ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী-এ প্রশ্নের উত্তর এখনো অস্পষ্ট। মাঠের নেতাকর্মীদের আলোচনায় কখনো এগিয়ে থাকছেন অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, আবার কখনো ফয়সল আহমদ চৌধুরীর নামই শোনা যাচ্ছে বেশি। তবে একটি বিষয়ে সবাই একমত-দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই, বিদ্রোহের পথও খোলা নেই কারও জন্য।
গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৬ আসন বিএনপির জন্য বরাবরই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনে একাধিক শক্ত প্রার্থী থাকায় শুরু থেকেই মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। প্রাথমিকভাবে বিএনপি মনোনয়ন দেয় সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীকে। নিজ এলাকায় শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে মনোনয়ন পাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেন তিনি। ঘোষণার পরপরই মাঠ গোছানোর কাজে নেমে পড়েন এমরান।
তবে একই সঙ্গে দলের একটি অংশ ফয়সল আহমদ চৌধুরীর পক্ষে অবস্থান নেয়। ফলে এমরানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় দলীয় ঐক্য ধরে রাখা। প্রকাশ্যে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিও ওঠে। কিন্তু এসব চাপ উপেক্ষা করে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই নির্বাচনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। ঠিক এই সময়ই নতুন মোড় নেয় পরিস্থিতি।
ফয়সল আহমদ চৌধুরীও এ আসনে পরিচিত মুখ। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনী পরিবেশ অনুকূলে না থাকলেও স্বল্প সময়ের ভোটেই আলোচনায় এসেছিলেন। এবার দু’জনই মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাইয়ে প্রথমে এমরানের মনোনয়ন বৈধ হয়। একদিন পর স্থগিতাদেশ কাটিয়ে প্রার্থিতা ফিরে পান ফয়সলও। ফলে একই আসনে দুই বিএনপি প্রার্থী মাঠে থেকে যান।
বর্তমানে প্রচারণা বন্ধ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত যোগাযোগে দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা সক্রিয়। এতে করে আবারও বিভক্ত হয়ে পড়েছে সিলেট-৬ আসনের বিএনপির রাজনীতি। একাংশ এমরানের পক্ষে, অন্য অংশ ফয়সলের পাশে অবস্থান নিয়েছে।
এ অবস্থায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিএনপির কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে কৌশলগত কারণে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই নির্বাচন কমিশনে দলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ধানের শীষের প্রার্থীর নাম পাঠানো হবে। তখনই পরিষ্কার হবে কে নির্বাচনী মাঠে থাকছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, সিলেট-৬ বিএনপির একটি শক্ত ভোটব্যাংকের আসন। একক প্রার্থী নিশ্চিত হলেই সাধারণ ভোটাররা ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নামবেন। দলীয় বিভ্রান্তি কাটানোই এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয়।
এদিকে এ আসনে জোটগত প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীও শক্ত অবস্থান নিয়েছে। দলটির ঢাকা উত্তর সভাপতি সেলিম উদ্দিনকে এ আসনে প্রার্থী করা হচ্ছে। তার বাড়ি বিয়ানীবাজারে হওয়ায় স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিত। আগে জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান এ আসনে প্রার্থী হওয়ার কথা থাকলেও তিনি সরে গিয়ে সিলেট-১ আসনে চলে যান। ফলে সিলেট-৬-কে চ্যালেঞ্জিং আসন হিসেবেই দেখছে জামায়াত।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




