খাজনা জটিলতায় কোম্পানীগঞ্জে জমি রেজিস্ট্রি-নামজারি বন্ধ
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৮ PM

সার্ভার সমস্যা নিরসন ও স্থায়ী অনুমোদনের দাবিতে দলিল লেখকদের মানববন্ধন

খাজনা জটিলতায় কোম্পানীগঞ্জে জমি রেজিস্ট্রি-নামজারি বন্ধ

ফারুক আহমেদ, কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২/০৯/২০২৬ ০৭:৫৪:৩৭ PM

খাজনা জটিলতায় কোম্পানীগঞ্জে জমি রেজিস্ট্রি-নামজারি বন্ধ

সংগৃহীত


সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) ব্যবস্থার স্থায়ী অনুমোদন এবং সার্ভার ও কোড জটিলতা নিরসন করে জমি রেজিস্ট্রি ও নামজারি কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন দলিল লেখকরা।

মঙ্গলবার বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে উপজেলা দলিল লেখক সমিতির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে দেশজুড়ে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের সুফল মিললেও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাধারণ মানুষ তা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছেন। উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোর অনলাইন সিস্টেমে স্থায়ী অনুমোদন না থাকা এবং সার্ভার ও কোড জটিলতার কারণে বর্তমানে খাজনা আদায় কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জমির ক্রেতা-বিক্রেতারা। জমি বিক্রি বা হস্তান্তরের সময় অনলাইনে পরিশোধিত খাজনার দাখিলা (রসিদ) উপস্থাপন বাধ্যতামূলক। কিন্তু সিস্টেম বন্ধ থাকায় মানুষ খাজনা পরিশোধ করতে পারছেন না। ফলে জমি রেজিস্ট্রিও করতে পারছেন না। একই কারণে হালনাগাদ খাজনার রসিদ না থাকায় নামজারির (মিউটেশন) শত শত আবেদনও অনলাইনে ঝুলে রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

ভুক্তভোগী ও দলিল লেখকেরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এ দুর্ভোগ লাঘবে ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোর অনলাইন কার্যক্রমের স্থায়ী অনুমোদন দিতে হবে। একই সঙ্গে সার্ভার ও কোড জটিলতা দ্রুত নিরসন করে জমি রেজিস্ট্রি ও নামজারি কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে হবে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি শামস্ উদ্দিন শাহিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাহান উদ্দিনের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সিনিয়র দলিল লেখক মো. মোজাম্মেল হোসেন, সুমন আহমেদ, কামরুজ্জামান, আশরাফ আলী, শাহাব উদ্দিন, আমিরুল হক, বাবুল আহমদ, জিয়াউল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম তুহিন, সাহেদ আহমেদ, সাইফুর রহমান, সোলেমান আহমদ, তাজুল ইসলাম, আব্দুল কাদির রিটন, হানিফ আলী, মুজিবুর রহমান, সাজ্জাদ মিয়া, মুখলিছুর রহমান, মদরিছ আলী প্রমুখ।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, “অনলাইনে খাজনা পরিশোধের দাখিলা ছাড়া দলিল রেজিস্ট্রি করার কোনো আইনি সুযোগ নেই। বর্তমানে সার্ভার ও টেকনিক্যাল জটিলতার কারণে সাধারণ মানুষ খাজনা পরিশোধ করতে পারছেন না। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে জমি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার ওপর। জনভোগান্তি কমাতে দ্রুত এই প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান হওয়া জরুরি।”

তিনি বলেন, আগে এই অফিসে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৫০ থেকে ৬০টি দলিল রেজিস্ট্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ১০টির নিচে নেমে এসেছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় উন্নয়নে এর প্রভাব তুলে ধরে সাব-রেজিস্ট্রার আরও বলেন, প্রতিটি দলিল নিবন্ধন থেকে স্থানীয় সরকার ৩ শতাংশ কর পায়। রেজিস্ট্রি কমে যাওয়ায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব তহবিলে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এমনকি অনেক প্রবাসী জরুরি ও সংক্ষিপ্ত ছুটিতে দেশে এসেও জমি রেজিস্ট্রি করতে না পেরে হতাশ হয়ে প্রবাসে ফিরে যাচ্ছেন।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার জানান, বর্তমানে উপজেলায় দুটি তহশিল অফিস রয়েছে। তবে কোনোটিরই প্রশাসনিক অনুমোদন নেই। দুটিই ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। নামজারিসহ কিছু কার্যক্রম ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হলেও এখানে প্রশাসনিকভাবে অনুমোদিত কোনো স্থায়ী জনবল নেই। কোনো বরাদ্দও নেই।

তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এ ধরনের সমস্যা হয়েছিল। সেখানে নিকটবর্তী অনুমোদিত তহশিল অফিসের সঙ্গে কানেক্ট করে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। তবে ভৌগোলিক বা কারিগরি কারণে কোম্পানীগঞ্জে তা সম্ভব হয়নি।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরও বলেন, অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থার স্থায়ী অনুমোদন ও কোডসংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে সার্ভারের ত্রুটি নিরসনে দ্রুত কাজ চলছে। মঙ্গলবারও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এর একটি স্থায়ী সমাধান হবে।

জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ: