ছবি:সংগৃহীত
ইতালির মেস্ত্রে এলাকায় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্তদের পরিচয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনের নাম প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট জুলকারনাইন সায়ের। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বাধীন যাচাই কিংবা ইতালির পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর মেস্ত্রের একটি পার্কে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘোরার সময় বাঁধনকে একদল ব্যক্তি ঘিরে ধরে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এ সময় তাঁর দিকে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছুড়ে মারা হয়। তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করা, মুঠোফোন ফেলে দেওয়া এবং তাঁর ভাইয়ের স্ত্রীকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
ঘটনার পর বাঁধন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে বলেন, হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
যাঁদের নাম এসেছে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বাঁধনের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁরা হলেন-হাওলাদার মনিরুল, মাসুম খালাসি, সেপল মাহমুদ বিপ্লব, কাজী লাবু, আলতাব পাহার, প্রেম কুমার হৃদয়, নুর-ই আলম ও মোক্তার মোল্লা।
এর মধ্যে বিভিন্ন ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে হাওলাদার মনিরুল, সেপল মাহমুদ বিপ্লব ও আলতাব পাহারের নাম আলাদাভাবে সামনে এসেছে। ভিডিওতে বাঁধনের দিকে পানি ছুড়ে দিতে দেখা ব্যক্তিকে সেপল মাহমুদ বিপ্লব এবং তাঁকে শাসাতে দেখা ব্যক্তিকে আলতাব পাহার হিসেবে শনাক্ত করার দাবি করা হয়েছে। আর বাঁধনের দিকে এগিয়ে গিয়ে থাপ্পড় দেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তিকে ইলিয়াস মিয়া হিসেবে শনাক্ত করার তথ্যও কয়েকটি প্রতিবেদনে এসেছে।
তবে ইলিয়াস মিয়ার নামটি জুলকারনাইন সায়ের প্রকাশিত আটজনের তালিকায় নেই
বাঁধনের বক্তব্য
ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে বাঁধন বলেন, তিনি পরিবারের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলেন। সেখানে একদল বাঙালি তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। তাঁর গায়ে পানি ও কোমল পানীয় ছোড়া হয় এবং তাঁকে আঘাত করা হয়। তাঁর সঙ্গে থাকা শিশুটিও ঘটনার সময় উপস্থিত ছিল বলে জানান তিনি।
বাঁধনের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাঁকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তাঁকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে হেনস্তা করা হয়।
স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ
ঘটনার পর বাঁধন স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি ইতালীয় কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার কথা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সংসদে বলেছেন, বাঁধনকে সর্বোচ্চ কনস্যুলার সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে এবং ইতালীয় কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হবে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও বিভিন্ন ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের পরিচয় সামনে এলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। ইতালীয় পুলিশের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের পরই ঘটনার সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সূত্র: প্রথম আলো
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




