আব্দুল লতিফ নানু মিয়া প্রায় ৪১ বছর যাবৎ সৌদি আরব প্রবাসী। নিজের চাওয়া-পাওয়া বলতে তেমন কিছু নেই তার। সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করতে পারাটাই একমাত্র লক্ষ্য ছিল। সেই লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় এখন তিনি অনেক খুশি। তার বড় মেয়ে ২য় বারের মতো বিসিএস পাস করেছেন। এখন তিনি প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি আগামীকাল সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন।
আব্দুল লতিফ নানু মিয়ার বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর। তিনি ৩ মেয়ে আর ২ ছেলে সন্তানের জনক। বড় মেয়ে ফারহানা ইয়াসমিন এবার ২য় বারের মতো (৪৪তম) বিসিএস পাস করেছেন। এর আগে ৪১তম বিসিএস পাস করে (এপ্রিল, ২০২৪) শিক্ষা ক্যাডারে যোগদান করেন। এবার ৪৪তম বিসিএস পাস করে ফারহানা ইয়াসমিন প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করছেন।
৪১তম বিসিএস পাস করে শিক্ষা ক্যাডারে ফারহানা ইয়াসমিন মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। মূলত ফারহানা ইয়াসমিনের আগ্রহের বিষয় ছিল প্রশাসন ক্যাডার। তাই শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দিতে পুনরায় বিসিএস পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন ফারহানা ইয়াসমিন। ৪৪তম বিসিএস পাস করে তিনি এখন তাঁর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছেন।
৫ ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় ফারহানা ইয়াসমিনের পড়ালেখা শুরু গ্রামের পাঠশালা দত্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর ২০১১ সালে তিনি বালাগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী দেওয়ান আব্দুর রহিম হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেন। সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ থেকে জিপিএ-৫সহ এইচএসসি পাস করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেন।
মেধাবী কন্যা ফারহানা ইয়াসমিনের পিতা আব্দুল লতিফ নানু মিয়া প্রায় ৪১ বছর বিদেশে থাকলেও নিজের সন্তানদের পড়ালেখার ব্যাপারে কার্পণ্য করেননি তিনি। তার বড় মেয়ে ফারহানা ইয়াসমিন যেমন দুইবারের বিসিএস পাস, তেমনি ২য় মেয়ে ফাহমিদা বেগম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স শেষ করেছেন। পাশাপাশি তার বড় ছেলে মাহবুবুর রহমান ফাহিম অনার্স অধ্যয়নরত। এছাড়া তার ছোট মেয়ে তাসনিয়া ইয়াসমিন ও ছেলে তাহসিনুর রহমান তামিম দুজনই এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী।
এদিকে, বালাগঞ্জের মেধাবী মেয়ে ফারহানা ইয়াসমিনের দুইবার বিসিএস পাসের সংবাদ জানাজানি হলে বালাগঞ্জসহ দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নানা শ্রেণি-পেশার নাগরিকরা ফারহানা ইয়াসমিনকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন।
ফারহানা ইয়াসমিনের শিক্ষক ঐতিহ্যবাহী দেওয়ান আব্দুর রহিম হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান, সহকারী প্রধান শিক্ষক জেসমিন বেগমসহ বিভিন্ন শিক্ষকবৃন্দ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বালাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান জিলু বলেন, আমাদের জানামতে বালাগঞ্জের প্রথমবারের মতো কোনো নারী দুইবার বিসিএস পাস করেছেন। আমরা তাঁর এই কৃতিত্বে আনন্দিত।
এদিকে, বড় মেয়ে ফারহানা ইয়াসমিন দুই দফা বিসিএস পাসের ব্যাপারে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সৌদি আরব প্রবাসী পিতা আব্দুল লতিফ নানু মিয়া।
তিনি বলেন, আজকে আমি অনেক আনন্দিত। মহান আল্লাহপাকের দরবারের শুকরিয়া জানাই, তিনি দেশ ও জাতির সেবায় আমার মেয়েকে সুযোগ দান করেছেন। আমি আশা করি, ফারহানা ইয়াসমিন তাঁর কর্মজীবনে কর্তব্যপালনে সততা বজায় রাখবে এবং দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে উজাড় করে দেবে।
এ বিষয়ে আলাপকালে ২য় বারের মতো বিসিএস উত্তীর্ণ সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা ইয়াসমিন তাঁর এ কৃতিত্বের জন্য পিতা আব্দুল লতিফ নানু মিয়া, মাতা নির্গম বেগমসহ তাঁর শিক্ষকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা জানিয়েছেন। তিনি তাঁর কর্মজীবনে সফল হতে সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




