সিলেটের ১৯ আসন ৮টিতে এগিয়ে বিএনপি ৪টিতে জামায়াত
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৬ AM

৭টিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

সিলেটের ১৯ আসন ৮টিতে এগিয়ে বিএনপি ৪টিতে জামায়াত

মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০/০২/২০২৬ ১১:১৪:৩৬ PM

সিলেটের ১৯ আসন  ৮টিতে এগিয়ে বিএনপি  ৪টিতে জামায়াত

ছবি:সংগৃহীত


সিলেট বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মধ্যে মূল লড়াই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অধিকাংশ আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও কোথাও কোথাও বিদ্রোহী প্রার্থী ও জোটের প্রার্থীরা সেই লড়াইকে আরও জমিয়ে তুলেছেন। সবশেষে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, ক্লিন ইমেজ ও সাংগঠনিক শক্তি ভোটের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের তথ্য মতে, সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত আটটিতে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। আর চারটিতে জামায়াতের অবস্থান বেশ ভালো। তাছাড়া সাতটি আসনে হাড্ডাহাডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। 

এরমধ্যে সিলেট জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে দুইটিতে বিএনপি, দুইটিতে জামায়াত ও দুইটি আসনে হাড্ডাহাডি লড়াইয়ের আভাস রয়েছে। সুনামগঞ্জে তিনটিতে বিএনপি, একটিতে জামায়াত ও একটিতে শক্ত লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হবিগঞ্জে দুইটিতে বিএনপির প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের সম্ভাবনা একেবারে ক্ষীন। তবে দুইটি আসনে জামায়াতের জোটের প্রার্থীদের মধ্যে লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। 

তাছাড়া চায়ের জেলা মৌলভীবাজারে চারটি আসনের মধ্যে একটিতে বিএনপি ও একটিতে জামায়াতের প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। আর দুইটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস রয়েছে। 

সিলেট-১ আসন (সিটি করপোরেশন ও সদর):

জাতীয় সংসদের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন সিলেট-১। এবার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীসহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আট প্রার্থী। 

ভোটাররা বলছেন, এ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (ধানের শীষ) ও জামায়েতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমানের (দাঁড়িপাল্লা) মধ্যেই মূল লড়াই হবে। তবে প্রচারণা ও জনসমর্থনে এখন পর্যন্ত বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এগিয়ে রয়েছেন বলে দাবি ভোটারদের। 

অন্যদিকে জামায়েতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমানকে জেতাতে মরিয়া ১১ দলের জোটের নেতাকর্মীরা। 

সিলেট-২ আসন (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর):

গুম হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মীনী তাহসিনা রুশদীর লুনা ভোটের মাঠে এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলীও পিছিয়ে নেই। লুনার সাথে তাঁর মূল লড়াই হবে বলে জানান ভোটরেরা। 

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসন:

প্রবাসী অধ্যুষিত এই আসনটিতে লড়াই হবে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মালিক (ধানের শীষ) ও জামায়াত জোটের শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজুর (রিকশা) মধ্যে। তাদের মধ্যে ধানের আব্দুল মালিক আগে থেকেই ভোটের মাঠে ছিলেন। এলাকায় তাঁর নিজস্ব শক্তিশালী বলয় রয়েছে। অন্যদিকে মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজুর বাবা মাওলানা নুরুদ্দিন গহরপুরী (রহ.) প্রখ্যাত বুযুর্গ ছিলেন। বাবার পরিচয়ে তিনি ভোটের মাঠে কিছুটা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন বলে মনে করছেন ভোটারেরা। ফলে এ আসনেও বিএনপি ও জামায়াতের জোটের প্রার্থীর অবস্থান সমানে সমান। 

সিলেট-৪ আসন (কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট):

এ আসনে এবার হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর প্রতিদ্বন্দ্বি সিলেট জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন। দুজনেই জনপ্রতিনিধি হওয়ায় আলাদা বলয় ও ভোটব্যাংক। তাঁরা বেশ আগে থেকেই ভোটের মাঠে সক্রিয়। জনসাধারণের কাছে দুজনেরই বেশ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সবমিলিয়ে এ আসনে আরিফুল ও জয়নালের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লাড়াই হবে বলে জানিয়েছন সাধারণ ভোটারেরা। তবে এখন পর্যন্ত আরিফ এগিয়ে রয়েছেন। 

সিলেট-৫ আসন (জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট):

সীমান্তবর্তী দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ভোটারেরা জানিয়েছেন। আসনটিতে বিএনপি জোটের সঙ্গী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে (খেজুর গাছ) সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে খেলাফত মজলিসের মুফতি মোহাম্মদ আব্দুল হাসানকে (দেওয়াল ঘড়ি) সমর্থন দিয়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এই দুই প্রার্থীকে দৌড়ের উপর রেখেছেন সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ। 

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে খেজুর গাছ, ফুটবল ও দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। কারণ এই তিন প্রার্থীরই নিজস্ব ভোট ব্যাংকের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ধর্মীয় সংগঠনের সমর্থন রয়েছে। সবমিলিয়ে এই আসনে তিন প্রার্থীর জমজমাট লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা। 

সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসন:

প্রবাসী অধ্যুষিত এই আসনে মুল আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। আসনটিতে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তবে দুজনের মধ্যে জামায়াতের প্রার্থী তুলনামূলক এগিয়ে রয়েছেন বলছেন স্থানীয় ভোটাররা। 

তবে কোনো অংশে কম নয় জামায়াতের মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। ছাত্রশিবিরের সাবেক এই নেতা তাঁর বিশাল কর্মীবাহিনী নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন ভোটের ময়দানে। সবমিলিয়ে সেলিম উদ্দিন অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন- বলছেন ভোটাররা। 

সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, তাহিরপুর, মধ্যনগর ও জামালগঞ্জ) আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে বিএনপির প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল ও জামায়াতের প্রার্থী তোফায়েল আহমদের মধ্যে। এ দুজনের মধ্যে এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছেন কামরুজ্জামান কামরুল। আসনটিতে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলকে বিজয়ী করতে মরিয়া দলটির নেতাকর্মী। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জামায়াতে ইসলাম মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমীর তোফায়েল আহমদ খান এবং নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী মোজাম্মেল হক তালুকদার। ‎জামায়াত নেতাদের দাবি, তৃণমূল পর্যায়ে তাদের শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি রয়েছে। জেলা আমীর প্রার্থী হওয়ায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে বলেও তারা মনে করছেন। 

সুনামগঞ্জ-২ হাওর অধ্যুষিত দিরাই ও শাল্লা উপজেলা নিয়ে গঠিত ‎সুনামগঞ্জ-২ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ নাছির উদ্দীন চৌধুরীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন জামায়াতে ইসলামিসহ ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। মাঠে রয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী নিরঞ্জন দাসও। ভাটির এলাকার এ আসনটিতে তিনজন প্রার্থী থাকলে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হচ্ছে নাছির উদ্দিন ও শিশির মনিরের মধ্যে। দুজনেই হেভিওয়েট। 

ভোটাররা বলছেন, দিরাই-শাল্লায় রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে ব্যাক্তি গ্রহণযোগ্যতার প্রাধান্য বেশি। যার কারণে মূল আলোচনায় নাছির উদ্দিন ও শিশির মনির। নাছির উদ্দিন এখনও এগিয়ে। 

‎‎সুনামগঞ্জ-৩ আসন (শান্তিগঞ্জ-জগন্নাথপুর) আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে ভোটের মাঠের লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ শাহীনূর পাশা চৌধুরী। ভোটারদের ধারণা এই তিনজনের মধ্যেই লড়াইয়ের আভাস রয়েছে। 

‎‎এই আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে একাধিক প্রার্থী ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ থাকায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপির বিদ্রোহী ও দলীয় প্রার্থীর মধ্যে লড়াই জমার আভাস রয়েছে এমনটা ধারণা ভোটারদের। ‎

‎সুনামগঞ্জ-৪ আসন (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন চারবারের উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। এতে বিএনপির ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

অন্যদিকে জামায়াতের একক প্রার্থী অ্যাডভোকেট শামস উদ্দীন সংগঠিত ও ধারাবাহিক প্রচারের মাধ্যমে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। তবে এ আসনে জেলা বিএনপির ঘাটি হওযায় নুরুলের অবস্থানই বেশ ভালো। এই আসনে মাঠে রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. নাজমুল হুদা ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শহীদুল ইসলাম। 

সুনামগঞ্জ-৫ আসন (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম মাদানী। অভিজ্ঞ কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনের তুলনায় একেবারে নতুন আব্দুস সালাম মাদানী। তবুও মাদানি আতঙ্ক মিলন শিবিরে। ‘ক্লিন ইমেজ’ এর মাদানি মিলনকে ঠেকাতে কাজ করছেন দিনেরাতে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটাররা মনে করছেন মিলনই পড়তে পারেন বিজয়ের মালা। 

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপিতে সদ্য যোগ দেওয়া ও দলীয় প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার মুখোমুখি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া। দলের নির্দেশ অমান্য করায় সুজাত মিয়া দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও নির্বাচনের মাঠে তার শক্ত অবস্থান রয়েছে। 

রেজা কিবরিয়া ও শেখ সুজাতের লড়াইয়ে সুযোগটা নিতে পারতেন জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান আলী। কিন্তু শেষ মুহুর্তে ১১ দলীর জোট থেকে সিরাজুল ইসলাম মিরপুরীকে প্রার্থী ঘোষণা করায় লড়াইটা গড়িয়েছে রেজা কিবরিয়া ও শেখ সুজাতের মধ্যে। তবে ভোটারদের ধারণা হাড্ডাহাডি লড়াই হবে। 

হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল আলোচনায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন ও ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুল বাছিত আজাদ। এ দুই প্রতিদ্বন্দ্বির মধ্যে বেশ এগিয়ে ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন। 

হবিগঞ্জ-৩ (সদর, শায়েস্তাগঞ্জ ও লাখাই) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জি কে গউছের প্রতিদ্বন্দ্বি জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমেদ। জিকে গউছ দীর্ঘদিন ধরে মাঠের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। নির্বাচনের মাঠে তার শক্ত অবস্থান রয়েছে। সিলেটজুড়েও তিনি বেশি পরিচিত। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমেদ সে তুলনায় একেবারে নতুন। প্রথমবার নির্বাচনে এসেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত ভোটারদের মতে, এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জিকে গউছ। 

হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে সবচেয়ে বেশি ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তবে আলোচানায় রয়েছেন দুইজন প্রার্থী। তারা হলেন, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও দলটির মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ ফয়সল ও ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন। হবিগঞ্জের রাজনীতিতে বেশ পরিপক্ষ সৈয়দ ফয়সলের কাছে ধরাশয়ী হতে পারেন ইসলামী বক্তা গিয়াস উদ্দিন। গিয়াস উদ্দিন ‘তাহেরী হুজুর’ হিসেবে দেশজুড়ে আলোচিত। তবে ফয়সলই এগিয়ে বলছেন ভোটাররা। 

মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ি) আসনে মূলত তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির নাসির উদ্দিন আহমেদ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের মধ্যে। তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে যাওয়ার প্রাণপণ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আহমেদ রিয়াজ উদ্দিনসহ অন্যরা। এ আসনে জামায়াাতের প্রার্থী বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছেন বলছেন ভোটাররা। 

মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বিএনপির মো. শওকতুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মো. সায়েদ আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল হক খানের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে এমন আভাস পাওয়া গেছে। 

মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমানের (ধানের শীষ) বিজয় অনেকটা নিশ্চিত বলে গুঞ্জন ওঠেছে। তবে গুঞ্জনও অনেকটা সত্য। কারণ আসনটিতে ১১ দলীয় জোট তাদের প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিসের মাওলানা আহমদ বিলালকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে কর্মী-সমর্থকদের বাধার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল মান্নান। অন্যদিকে এ আসনটিতে বিএনপি প্রার্থী ও দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমানের অবস্থান এমনিতেই সুদৃঢ়। দলীয় কোনো কোন্দল নেই। সবাই ধানের শীষের পক্ষে একাট্টা। এ অবস্থায় ১১ দলীয় জোটের এই জটের কারণে তিনি অনেকটাই নির্ভার। 

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ) আসনের হিসাবটা বেশ জটিল। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপির মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি বিদ্রোহী মো. মহসিন মিয়া মধু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদী, জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রীতম দাশ, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জরিফ হোসেন ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের মো. আবুল হাসান। 

মৌলভীবাজার-৩ আসনের মতো এ আসনটিতেও ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের জট রয়েছে। জোট থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি নাকি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তা নিশ্চিত করা হয়নি। তাই এখানে জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব প্রীতম দাশ ও একই জোটের শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উপদেষ্টা মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি বিদ্রোহী মো. মহসিন মিয়া মধু মিয়ার অবস্থানও বেশ ভালো। তবে শেষ মুহুর্তে ১১ দলের জোট থেকে একজনকে সরিয়ে নেওয়া হলে বিএনপি প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিন মিয়া মধু ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে বলে সাধারণ ভোটারদের অভিমত। 


জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ


শীর্ষ সংবাদ: