ছবি:সংগৃহীত
বিলাল উদ্দিন, কুয়েত প্রতিনিধি:
প্রচণ্ড তাপদাহ আর প্রতিকূল আবহাওয়ার দেশ কুয়েতে বাংলাদেশি শ্রমিকরা গড়ে তুলেছেন সবুজের এক নতুন দিগন্ত। প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম আর দক্ষতার মাধ্যমে মরুভূমিতে চাষ করছেন নানা জাতের শাক-সবজি ও ফলমূল।
কুয়েতের মরু অঞ্চল ওফরা ও আবদালিতে বাংলাদেশিদের হাত ধরে সৃষ্টি হয়েছে সবুজের সমারোহ। তাদের মেধা, ধৈর্য ও পরিশ্রমে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের সবজি উৎপাদন হচ্ছে। এসব উৎপাদিত ফসল কুয়েতের সেন্ট্রাল সবজি মার্কেটসহ বিভিন্ন সুপারশপে সরবরাহ করা হয়।
এদিকে, কুয়েতের শিল্প এলাকা সুয়েখেও অনেক বাংলাদেশি সবজি চাষের পাশাপাশি নার্সারি গড়ে তুলেছেন। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ফলের চারা উৎপাদন ও বিক্রি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কুয়েতে কৃষিখাতে কর্মরত শ্রমিকদের বড় একটি অংশই বাংলাদেশি, এবং এ খাতে তাদের দক্ষতা ও সুনাম অন্যান্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় বেশি।
স্থানীয় মাজারা (খামার) মালিকরাও বাংলাদেশিদের কাজের প্রতি সন্তুষ্ট। তাদের মতে, বাংলাদেশিরা নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে মরুভূমিতেও সফলভাবে ফসল উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন।
কৃষিকাজে নিয়োজিত বাংলাদেশি শ্রমিক রাসেল মিয়া জানান, “আমরা এখানে টমেটো, বেগুন, বরবটি, লাল শাক, ধনিয়া, মূলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, কলমি শাক, কুমড়াসহ নানা জাতের দেশি-বিদেশি শাক-সবজি চাষ করি।”
তিনি আরও বলেন, ‘দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করলে ৮ থেকে ১০ দিনার পর্যন্ত মজুরি পাওয়া যায়। আর যারা কোম্পানির ভিসায় আছি, তাদের মাসিক বেতন ৮০ থেকে ১৫০ দিনার। থাকা-খাওয়ার খরচ মালিক বহন করে। সব মিলিয়ে কোনোভাবে সংসার চালানো যায়।’
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশ সরকার উদ্যোগ নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে কৃষিখাতে কম খরচে দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে পারলে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাবে। যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




