গানের সুরে সুরে সন্দীপনের পঁচিশ বছর
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৪ PM

গানের সুরে সুরে সন্দীপনের পঁচিশ বছর

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২/০৪/২০২৬ ১২:৪৯:৪২ AM

গানের সুরে সুরে সন্দীপনের পঁচিশ বছর

ছবি:সংগৃহীত


গানের মানুষ সন্দীপন। ছোটবেলা থেকেই সুরের ভুবনে পথচলা শুরু, আর সেই পথেই টানা পঁচিশ বছরের নিরলস সাধনা। গানই তার জীবন, গানই তার ধ্যান-জ্ঞান। গানের মধ্য দিয়েই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত থাকতে চান জনপ্রিয় এই শিল্পী।

সন্দীপনের ভাষায়, ‘সঙ্গীত একটি সাধনার বিষয়। নিয়মিত চর্চা আর ভালো গুরুর সান্নিধ্য ছাড়া প্রকৃত শিল্পী হওয়া সম্ভব নয়।’ তিনি মনে করেন, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায় থাকলে সঙ্গীতে সফলতা আসবেই।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি গেয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান-যার মধ্যে রয়েছে ‘মধু হই হই বিষ খাওয়াইলা’, ‘বানুরে ও বানু’, ‘ওরে হালা ভোমরা’, ‘সোনা বন্ধু তুই আমারে করলিরে দিওয়ানা’, ‘লুসাই পাহাড়’সহ আরও অনেক গান। ফোক-ফিউশন ধারার গানই তাকে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে।

মঞ্চনাটকের মাধ্যমে শিল্পীজীবন শুরু হলেও পরে সঙ্গীতেই নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত করেন তিনি। গায়ক ও সুরকার বাপ্পা মজুমদারের প্রেরণায় অ্যালবাম প্রকাশের পথে এগিয়ে যান। ২০০৪ সালে প্রকাশিত ‘সোনাবন্ধু’ অ্যালবামের মাধ্যমে দেশব্যাপী পরিচিতি পান তিনি।

চট্টগ্রামের রাউজানে তার গ্রামের বাড়ি, আর বেড়ে ওঠা পাথরঘাটা ও হাজারি গলির সাংস্কৃতিক পরিবেশে। পারিবারিকভাবেও তিনি পেয়েছেন সংগীতচর্চার অনুপ্রেরণা। প্রথমে মিহির কান্তি লালার কাছে সঙ্গীতের প্রাথমিক শিক্ষা নেন। পরে কলকাতায় গিয়ে অভিনয় ও রবীন্দ্রসংগীতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

ক্যারিয়ারের শুরুতে নানা বাধা পেরিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন সন্দীপন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানে দিনের পর দিন অপেক্ষা, গান ফিরিয়ে দেওয়া-এসব অভিজ্ঞতা তাকে থামাতে পারেনি। বরং আরও দৃঢ় করেছে।

বর্তমানে তার একক অ্যালবাম দশটির বেশি এবং মিক্সড অ্যালবাম শতাধিক। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চে গান পরিবেশন করে চলেছেন তিনি। পাশাপাশি নতুন ফোক ও রবীন্দ্রসংগীতের কাজ নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন।

গানের জগতে না এলে কী হতেন-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ফুটবল খেলোয়াড় হতাম। গোলকিপার হিসেবে খেলতাম। তবে শেষ পর্যন্ত গানকেই বেছে নিয়েছি।’

সময়ের পরিবর্তনে সংগীতের ধরন বদলেছে বলে মনে করেন সন্দীপন। তার মতে, আগে শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার একসঙ্গে বসে গান তৈরি করতেন, ফলে সৃষ্টি হতো কালজয়ী গান। এখন প্রযুক্তিনির্ভরতা ও ভাইরাল সংস্কৃতি সংগীতের ধারা বদলে দিয়েছে।

তবুও তিনি আশাবাদী। তার বিশ্বাস, বাংলা গানের ঐতিহ্য ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি বলেন, “শ্রোতারাই আমার শক্তি। তাদের ভালোবাসাই আমাকে বাঁচিয়ে রাখে। আমি গানে আছি, থাকবোই।”

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ: