সংগৃহিত
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বেজুড়া এলাকায় গড়ে ওঠা যমুনা শিল্প পার্কে ব্যাপক সবুজায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের এই কার্যক্রম ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের এই সময়ে পরিবেশবান্ধব শিল্প কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি সরেজমিনে যমুনা শিল্প পার্ক পরিদর্শন করে দেখা যায়, কারখানার আশপাশের খালি জায়গাগুলো পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো হয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির দেশি-বিদেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি সবজি চাষাবাদও করা হচ্ছে। পুরো এলাকাজুড়ে এক ধরনের সবুজের আবহ সৃষ্টি হয়েছে, যা শিল্প এলাকার প্রচলিত চিত্র থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। চলতি বছর প্রায় এক হাজার গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা এই সবুজায়ন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করবে। ইতোমধ্যে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন যমুনা শিল্প পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলাম
কারখানার প্রশাসন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ রাশেদুল আমিন জানান, যমুনা গ্রুপের বর্তমান নেতৃত্ব—ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলাম, পরিচালক মনিকা নাজনীন ইসলাম এবং পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম—তাদের পিতা, দেশের অন্যতম শিল্পপতি ও প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বাবুলের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ২০১৫ সালে রাজধানীর বাইরে গ্রামীণ এলাকায় শিল্প স্থাপনের লক্ষ্যে বেজুড়ায় যমুনা শিল্প পার্ক প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল স্থানীয় জনগণের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা।
বর্তমানে যমুনা শিল্প পার্কে চা বাগানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত অসংখ্য মানুষ কাজ করছেন। বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। একসময় যারা পরিবারে অবহেলিত ছিলেন বা অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল ছিলেন, তারাই এখন নিজের আয় দিয়ে পরিবার পরিচালনা করছেন এবং সমাজে সম্মানের সঙ্গে বসবাস করছেন।
শুধু কর্মসংস্থান নয়, পরিবেশ রক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এই শিল্প পার্কে। কারখানায় আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করা হয়েছে, যাতে শিল্পবর্জ্য পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে। পাশাপাশি কারখানার ভেতরে সবজি চাষের মাধ্যমে কর্মীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ সুরক্ষিত হচ্ছে, অন্যদিকে কর্মীদের জীবনমানও উন্নত হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যমুনা শিল্প পার্ককে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবেশবান্ধব শিল্পাঞ্চলে পরিণত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। সবুজায়নের মাধ্যমে শিল্প এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইউপি সদস্য আরজু মেম্বার জানান, যমুনা শিল্প পার্ক স্থাপনের ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নও ঘটেছে। এখন এই সবুজায়ন কার্যক্রম পুরো প্রকল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং এলাকাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
, যমুনা শিল্প পার্কের এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও শিল্প উন্নয়নের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রকল্প ভবিষ্যতে দেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ




