হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার হাওড়জুড়ে পাকা ধানের সোনালি ঢেউ। সকালের মিষ্টি রোদে দুলছে কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রমের ফসল। কিন্তু প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যের মাঝেও মিলে না স্বস্তি।
হাওরজুড়ে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। তেল সংকট, শ্রমিকের অভাব আর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাঠের সোনালি ফসল ঘরে তোলা নিয়ে গভীর শঙ্কায় পড়েছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ছোট-বড় হাওরে প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হলেও বর্তমানে অধিকাংশ ধান কাটার উপযোগী হয়ে উঠেছে। তবে মাঠের ধান পেকে গেলেও তা কাটতে গিয়ে কৃষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। টানা বৃষ্টির ফলে দ্রুত ধান কাটা যাচ্ছে না। পাশাপাশি রয়েছে শ্রমিক সংকট ও যান্ত্রিক সহায়তার অভাব।
সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, ধান কাটার ভরা মৌসুমেও শ্রমিকের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। দ্বিগুণ মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। যেসব শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে, প্রতিদিন জনপ্রতি ১০০০-১২০০ টাকা মজুরিতে ধান কাটছেন তারা। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় বাধ্য হয়ে পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটতে হচ্ছে শ্রমিকদের। বর্তমানে শ্রমিক দিয়ে ১ বিঘা ধান কাটতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪০০০-৫০০০ টাকা আর মাড়াইয়ের জন্য বাড়তি গুনতে হচ্ছে আরও প্রায় ৮০০ টাকা।
স্থানীয় কৃষক আবুল হাসান বলেন, ধানের ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু তেল সংকটে হারভেস্টার চালানো যাচ্ছে না। আবার বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর ঝড়-বৃষ্টি আর শিলাবৃষ্টির ভয় তো আছেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ভর্তুকিতে বিতরণ করা অনেক হারভেস্টার মেশিন মাঠে দেখা যাচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, বন্যার ঝুঁকি এড়াতে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হাওরে এখন পর্যন্ত ৩৫ শতাংশের বেশি ধান কাটা হয়েছে।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




