নিজস্ব
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ১০নং ছাতিয়াইন ইউনিয়নের এক্তিয়ারপুর, মনিপুর ও শ্রীমতপুর—এই তিনটি গ্রামের হাজারো মানুষ একটি মাত্র রাস্তার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এক্তিয়ারপুর থেকে শাহপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এ রাস্তাটি ওই তিন গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের একমাতার করিডোর। বছরের পর বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা এই রাস্তাটি এখন এলাকাবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি পানি ও কাদায় একাকার হয়ে যায়, শুকনো মৌসুমে ধুলার ঝড় ওঠে। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও পানি জমে থাকে। ফলে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করতে না পারায় ঝুঁকিতে পড়ছে সংকটাপন্ন রোগীর জীবন।
এক্তিয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “আমরা বছরের পর বছর এই রাস্তা দিয়ে কষ্ট করে চলাচল করছি। একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটা যায় না। অসুস্থ রোগী নিয়ে বের হতে গেলে চরম বিপদে পড়তে হয়।”
মনিপুর গ্রামের গৃহবধূ রহিমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না ঠিকমতো। কাদা মাড়িয়ে যেতে হয়। কতবার বলেছি, কিন্তু কেউ শুনে না।”
শ্রীমতপুর গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, “আমরা কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পারি না ঠিকমতো। রাস্তার কারণে অনেক সময় পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা রাস্তার দুরাবস্থা তুলে ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু তাতেও টনক নড়েনি প্রশাসনের। জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকেও মিলছে শুধু আশ্বাস, বাস্তবায়ন নেই।
এ বিষয়ে ১০নং ছাতিয়াইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী কাসেদ বলেন, “রাস্তাটির বিষয়টি আমরা অবগত আছি। ইতোমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”
মাধবপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রেজাউন নবী বলেন, “রাস্তাটি আমাদের তালিকাভুক্ত রয়েছে। সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




