ছাতকে মেয়ে জামাইয়ের পোল্ট্রি খামারের মোরগ হ*ত্যার অভি*যোগ শ্বশুরের বিরুদ্ধে, থানায় মা*মলা
বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ AM

খামারির বুকফাটা কান্না

ছাতকে মেয়ে জামাইয়ের পোল্ট্রি খামারের মোরগ হ*ত্যার অভি*যোগ শ্বশুরের বিরুদ্ধে, থানায় মা*মলা

মোশাররফ হোসেন, ছাতক প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮/০৫/২০২৬ ১২:৫৫:৩৬ AM

ছাতকে মেয়ে জামাইয়ের পোল্ট্রি খামারের মোরগ হ*ত্যার অভি*যোগ শ্বশুরের বিরুদ্ধে, থানায় মা*মলা

ছবি:সংগৃহীত


সুনামগঞ্জের ছাতকে পারিবারিক ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি পোল্ট্রি খামারে বিষপ্রয়োগ করে প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০ মোরগ হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এতে খামার মালিকের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

এ ঘটনায় খামার মালিক মো. হুশিয়ার আলী ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি ছাতক পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হুশিয়ার আলী তার বসতঘরের দ্বিতীয় তলায় প্রায় ২০০০টি ‘বাউন কক’ জাতের মোরগ নিয়ে খামার পরিচালনা করছিলেন। গত ৬ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে খামার দেখে ঘুমাতে যান তিনি। পরদিন সকাল ৬টার দিকে খামারে গিয়ে দেখেন প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০টি মোরগ মৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনায় তার প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুর মো. আবুল মিয়ার সঙ্গে জমি-জমা ও পারিবারিক বিরোধ চলছিল। পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে খামারে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছে বলে তিনি সন্দেহ করছেন।

অভিযোগে আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত আবুল মিয়ার স্ত্রী জানান, ‘ঘটনাটি সত্য হতে পারে বলে আমি মনে করি।’ তিনি আরও বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মেয়ের জামাইকে হয়রানি করা হচ্ছে। একই ধরনের বক্তব্য তার ছেলে ও মেয়েও দিয়েছেন।

তবে অভিযুক্ত আবুল মিয়াকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তার ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা গেছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিলন মিয়া বলেন, প্রাথমিক পরিদর্শনে কোনো বাহ্যিক রোগের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। এত সংখ্যক মোরগ হঠাৎ মারা যাওয়া উদ্বেগজনক। বিষয়টি নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে সিলেট ল্যাবে পাঠানো হবে।

ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্তের জন্য একজন এসআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছাতক উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও অরূপ রতন সিংহ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে বলে জানা গেছে।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ