ছবি:সংগৃহীত
প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে হাজারো কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া জকিগঞ্জ উপজেলা শাখার সম্মেলনে প্রশাসনিক বাধার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল-ইসলাহর কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্মেলন আয়োজনে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা মিললেও নিজ জন্মভূমি জকিগঞ্জে এসে একজন ‘অপরিচিত মানুষের মতো অসহায়’ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সোমবার (৮ জুন) জকিগঞ্জ ডাকবাংলো
মাঠে অনুষ্ঠিত উপজেলা তালামীয সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রায় দেড় বছর পর নিজ উপজেলায়
আগমন উপলক্ষে শতাধিক মোটরসাইকেলের শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাকে বরণ করে নেন নেতাকর্মীরা।
সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি
মঞ্জুরুল করিম মহসিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আনজুমানে আল-ইসলাহর কেন্দ্রীয়
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা নজমুল হুদা খান এবং সিলেট জেলা তালামীযের সভাপতি
হোসাইন আহমদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা তালামীযের সভাপতি আবু হানিফ নায়িম এবং
সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা
হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বলেন, ‘এই অঞ্চলের মাটিতে আমি কোনো আগন্তুক নই। আমার পূর্বপুরুষরা
প্রায় ৬০০ বছর ধরে এ অঞ্চলে দ্বীনের খেদমত করে আসছেন। হযরত ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী (রহ.)-এর
আদর্শের ধারাবাহিকতায় আমরা আজও সেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, দ্বীনি আন্দোলন,
ইসলামী মূল্যবোধ এবং আউলিয়ায়ে কেরামের আদর্শ প্রচারের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। শত
ত্যাগ-তিতিক্ষা স্বীকার করেও দ্বীনের খেদমত চালিয়ে যেতে হবে।
সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, পারিবারিক
অস্থিরতা ও মূল্যবোধের সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের
আদর্শিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, বিভ্রান্তি
ও ধর্মীয় মূল্যবোধবিরোধী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্মীদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার
আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি,
অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা অব্যাহত থাকবে। বাকস্বাধীনতা খর্বের যেকোনো
প্রচেষ্টার বিরোধিতা করা হবে। তবে তালামীযে ইসলামিয়া কাউকে আক্রমণ করে না, কিন্তু আঘাত
এলে তা প্রতিহত করতে পিছপা হবে না।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন
মাওলানা ফারহান আহমদ চৌধুরী রেদা, মাওলানা আব্দুস সবুর, মাওলানা এখলাছুর রহমান, মো.
ইসলাম উদ্দিন চৌধুরী, মাওলানা মো. ফজলুর রহমান চৌধুরী, সাংবাদিক জুবায়ের আহমদসহ জেলা,
উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সম্মেলনের শেষ পর্বে আল্লামা
হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী দেশ, জাতি, ছাত্রসমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ঈমান, নৈতিকতা
ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।
এদিকে সম্মেলনে যোগদানের পথে
আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী কে বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগের ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ
প্রকাশ করেছেন সমাজসেবক, ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক
অধিকার। একজন সম্মানিত আলেম ও জনপ্রিয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে বাধার মুখে পড়তে হওয়া দুঃখজনক
এবং নিন্দনীয়।এদিকে এক বিবৃতিতে হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। একজন সম্মানিত
আলেম, জনপ্রিয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও সাবেক সংসদ সদস্যকে কোনো ধরনের বাধার মুখে পড়তে
হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
তিনি বলেন, মত ও পথের ভিন্নতা
থাকতে পারে, কিন্তু কাউকে বাধাগ্রস্ত করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের
বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের
ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
আরও বলেন, সিলেটের আলেম-উলামা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং শান্তিপূর্ণ
পরিবেশ বজায় রাখা সকলের দায়িত্ব। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির মাধ্যমেই
একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




