মাধবপুরে ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার আইসিটি কেন্দ্র ৮ বছরেও শেষ হয়নি
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৫ PM

মাধবপুরে ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার আইসিটি কেন্দ্র ৮ বছরেও শেষ হয়নি

জালাল উদ্দিন লস্কর ,মাধবপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৯/০৯/২০২৬ ০৪:৫৭:৫৫ PM

মাধবপুরে ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার আইসিটি কেন্দ্র ৮ বছরেও শেষ হয়নি

ছবি:সংগৃহীত


হবিগঞ্জের মাধবপুরে ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা সম্পদ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০১৮ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ। ফলে উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

শিক্ষকদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা এবং শিক্ষাতথ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক করার লক্ষ্যে সরকার এ প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্পের আওতায় মাধবপুরে একটি প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা সম্পদ কেন্দ্র নির্মাণের কথা। সেখানে কম্পিউটার কক্ষ, তথ্যকেন্দ্র, সার্ভার কক্ষ, সভাকক্ষসহ বিভিন্ন সুবিধা থাকার কথা রয়েছে।

সরকারি দরপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ ও স্থাপনসহ সংশ্লিষ্ট কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০ মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের কয়েক গুণ পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শেষ হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) ও দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের মূল ঠিকাদার হিসেবে রয়েছে বিওএফ কোরিয়া।

২০১৮ সালে কেন্দ্রটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় নির্মাণকাজে তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। ২০২২ সালের মার্চে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য চেয়ে চিঠি দেয়। এরপরও কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ কার্যত থমকে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে বর্তমানে কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ আবার শুরু হয়েছে। ‘ট্রাস্টেড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে সেখানে কাজ করছে।

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী রকিবুল ইসলাম রোমান বলেন, ‘আমরা জুন মাসে এখানে এসে কাজ শুরু করেছি। আমরা এসে শুধু ভবনের ভিত্তির কাজ সম্পন্ন অবস্থায় পেয়েছি। আমাদের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।’

সময়ের সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে কি না, জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির সাইট প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম সাগর বলেন, প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে। তবে নতুন করে কত টাকা ব্যয় বরাদ্দ হয়েছে, সে তথ্য তিনি জানাননি।

নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘আগে কী হয়েছে, না হয়েছে, সেদিকে যাব না। তবে এখন যেহেতু কাজ চলমান আছে, তাই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই যাতে নির্মাণকাজ শেষ হয়, সেদিকে নজর রাখব।’

প্রকল্পের মেয়াদ নিয়েও ভিন্ন তথ্য

প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নিয়েও সরকারি বিভিন্ন নথিতে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। একটি সরকারি তথ্যে প্রকল্পের সময়কাল ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। আবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রকল্প তালিকায় বাস্তবায়নকাল ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেখানো হয়েছে।

মাধবপুরে প্রকল্পটির আওতায় ২৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতটি মাদ্রাসা ও দুটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় এর সুফল থেকে শিক্ষকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, নির্মাণকাজ শেষ করতে যেখানে ২০ মাস সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেখানে একটি উপজেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা সম্পদ কেন্দ্র নির্মাণে এত দীর্ঘ সময় লাগল কেন? নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সময় বাড়ার কারণে প্রকল্পের ব্যয় কতটা বেড়েছে এবং দীর্ঘসূত্রতার জন্য দায়ী কারা-এসব বিষয়ও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা গেলে মাধবপুরের শিক্ষকদের তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষাতথ্য ব্যবস্থাপনায় এর সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।


জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ:

মাধবপুরে ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার আইসিটি কেন্দ্র ৮ বছরেও শেষ হয়নি
হাম ও উপসর্গে সিলেটে মৃ'ত্যু বেড়ে ১৮০
জগন্নাথপুরে মৎস্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি: “আমি কি আমার মেয়ের বিয়ে লাগাইসি যে সাংবাদিকদের বলতে হবে!”
চার বছরেও চালু হয়নি ওজন পরিমাপক যন্ত্র, ঝুঁকিতে রানীগঞ্জ সেতু-সড়ক
আশ্বাসেও কাটেনি অ/চলাবস্থা, অনড় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা
প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষার সব স্তরের শিকড়- সিসিক প্রশাসক
শিক্ষাকে ধ্বংস করা হয়েছে, পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে : এমপি নাসির উদ্দীন আহমেদ
দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান
আন্দোলনের মধ্যেই সিকৃবিতে ভিসি বদল
সিলেট দেশের প্রথম প্লাস্টিক দূষণমুক্ত শহর হবে - সিসিক প্রশাসক