ছবি:সংগৃহীত
জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গঠনে উচ্চশিক্ষার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে শুধু ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, গবেষণা, উদ্ভাবন ও দেশ গঠনের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) অডিটোরিয়ামে জালালাবাদ ছাত্রকল্যাণ সমিতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া। বিশ্বের যেসব দেশ টেকসইভাবে এগিয়েছে, তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে মৌলিক বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছে। এসব খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করেছে এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি শক্ত করেছে।
বাংলাদেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, গবেষণায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগের পর্যায়ে যাওয়ার আগেই এসব খাতের মৌলিক সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে হচ্ছে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকারের দুটি ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। পর্যায়ক্রমে এ দুই খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশের সমপরিমাণ বিনিয়োগের লক্ষ্যের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ পর্যায়ে পৌঁছাতে সময় লাগবে এবং ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে নবীনবরণ স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের প্রকৃত উন্নয়নের ভিত্তি শুধু অবকাঠামো নয়; দক্ষ ও যোগ্য মানুষ তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে কোনো আপসের সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু চাকরির জন্য শিক্ষার্থী তৈরি করা নয়। এমন শিক্ষার্থী তৈরি করতে হবে, যারা গবেষণা করবে, নতুন চিন্তা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সামাজিক সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখবে এবং দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে।
সিলেটের শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট ঐতিহ্যগতভাবে জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এ অঞ্চল থেকে অনেক মেধাবী মানুষ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে আত্মসমালোচনার জায়গা থেকে দেখতে হবে, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা মেধাবী প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে কি না।
তিনি বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, গবেষণা, শিক্ষকতা ও একাডেমিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে উল্লেখ করে এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোই শেষ কথা নয়; শিক্ষার মান বাড়ানোই মূল বিষয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেটের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা, শিক্ষার্থী বিনিময় ও একাডেমিক সহযোগিতা বাড়ানো যেতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, অর্থনীতি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও নগর ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সিলেটের শিক্ষার্থীদের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে তারা শুধু চাকরির সন্ধান করবে না; বরং উদ্যোক্তা, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ ও নেতৃত্ব দেওয়ার মতো দক্ষ মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভর্তি হওয়া সিলেট বিভাগের চার জেলার শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন সফলভাবে সম্পন্ন করা কৃতী শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
জালালাবাদ ছাত্রকল্যাণ সমিতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আব্দুল বাছিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আলী মোহাম্মদ কাওছার, দৈনিক ‘আগামীর সময়’-এর সম্পাদক মোস্তফা মামুন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহদীন চৌধুরী ও ব্যারিস্টার ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জালালাবাদ ছাত্রকল্যাণ সমিতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ও সহসভাপতি শাকেরা বখস।
এতে সমিতির বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মী এবং সিলেট অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা জালালাবাদ অঞ্চলের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নিজ অঞ্চলের শিক্ষা ও সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




