দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতেই বাজেটের বিরোধিতা: প্রধানমন্ত্রী
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০২:২৫ AM

দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতেই বাজেটের বিরোধিতা: প্রধানমন্ত্রী

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩/০৬/২০২৬ ০৩:৩৮:৪৬ PM

দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতেই বাজেটের বিরোধিতা: প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশে বিঘ্ন ও অস্থিতিশীলতা তৈরি করার জন্য বিরোধী দল প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করছে।’আজ শনিবার সকালে পিএমখালি ইউনিয়নের পাতলী খাল পুন:খননের পরেসংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খবরের কাগজগুলোতে দেখলাম, এবার বাজেটের পরে এখন পর্যন্ত কোন জিনিসের দাম বৃদ্ধি পায়নি। কারণ চাল, ডাল, তেল, লবনসহ নিত্য প্রয়োজনীয় যেসব জিনিসপত্র আছে সেগুলো উপর অযৌক্তিক ট্যাক্স তুলে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৬০টি পণ্যের উপর থেকে ট্যাক্স তুলে নিয়েছে। যাতে করে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম না বাড়ে। এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য একটাই., দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল বলছে, এই  বাজেট গণবিরোধী। এই গণবিরোধী বাজেট তারা মানে না। আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই, যে বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয় সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। যেই বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, যেই বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। আশা করি, এবার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন?’তারেক রহমান বলেন, ‘আমার মনে হয় বাজেটে মদ-সিগারেট ও বিলাসী পণ্যের ওপর ট্যাক্স বাড়ানোর কারণে বিরোধী দল চরমভাবে নাখোশ হয়েছে। তাই তারা এ বাজেট মানে না দাবি করে মিছিল-সমাবেশ করছে। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় ৩৭ পণ্যে ট্যাক্স কমানো হলো, সেটা তারা কোথাও বলছে না। এতে কী বোঝা যায়, সাধারণ মানুষ নয়, বিশেষ কিছু শ্রেণির স্বার্থই তাদের কাছে বড়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের(বিরোধী দল) লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে একটি অস্থিতিশীলতা অশান্তি তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কিন্তু কৃষির সাথে সাথে আমাদেরকে শিল্প বাণিজ্য গড়ে তুলতে হবে এবং সে কারণেই শিল্প বাণিজ্য যদি গড়ে উঠতে পারে আমাদের সন্তানদের সেখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। চাকরি বাকরি, ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবে এবং সে কারণেই দেশীয় সকল শিল্প দেশে উৎপন্ন হয়, যে সকল দ্রব্য দেশে উৎপাদিত হয় একই জিনিস যেগুলো বিদেশ থেকে আসে সেগুলোর উপরে আমরা ট্যাক্স বাড়িয়েছি যাতে করে দেশে যেই দ্রব্যটি উৎপাদিত হচ্ছে সেই দ্রব্যটি যারা উৎপাদন করে, সেই শিল্প কারখানাটি যাতে সাপোর্ট পেতে পারে তার ব্যবস্থা আমরা এই বাজেটের মধ্যে রেখেছি। এটিও বিরোধী দলের পছন্দ নয়।’‘আমি বলতে চাই যে, এদেশের মালিক আপনারা। দেশের মালিক কোন রাজনৈতিক দল নয়, দেশের মালিক কোন পরিবার নয়, দেশের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশের ২০ কোটি জনগণ।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। কাজেই জনগণের হচ্ছে, আমাদের শক্তি। জনগণের সমর্থন হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় সমর্থন। জনগণের শক্তি হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের সাথে জনগণের সমর্থন আছে বলেই যতক্ষণ আমাদের প্রাণ থাকবে আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত এই দেশ এবং এই দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব।’‘এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার জন্য আমরা কাজ করে যাব। কারণ এই দেশই হচ্ছে বিএনপির প্রথম ঠিকানা। এই দেশই হচ্ছে বিএনপির শেষ ঠিকানা। এই দেশ আমাদের এ দেশকে গড়লে আমরাই ভালো থাকবো,আমাদের সন্তানরাই শান্তিতে থাকতে পারবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশকে যদি আমরা গড়তে না পারি তাহলে আমাদের সন্তানরা দুঃখ কষ্টে থাকবে। কেউ কি চায় নিজের সন্তান কষ্টে থাকুক? কেউ আমরা চাই না। সেজন্যই আমরা একটি কথাই বলি, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, স্থা্নীয় নেতা হারুনুর রশীদ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।প্রধানমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার আগে পাতলী খালের পাড়ে গিয়ে নিজ হাতে কোদাল নিয়ে পুনঃখনন করেন এবং কাঠ বাদামে চারা রোপণ করেন।

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ: