ছবি:সংগৃহীত
সরকারের সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় সিলেটের ওসমানীনগরে নতুন মোড় নিয়েছে। বন বিভাগের অনুমতির দাবি করে সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার পর এবার ভুয়া ব্যাংক চালান দেখিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিভ্রান্ত করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযোগ রয়েছে, গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের কলারই গ্রামের কামাল হোসেন ও পূর্ব ব্রাহ্মণগ্রামের আনোয়ার হোসেনসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সড়কের পাশের সামাজিক বনায়নের বড় বড় গাছ কেটে বিক্রি করে আসছে।
সর্বশেষ বুরুঙ্গাবাজার আঞ্চলিক সড়কের মুখ থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি বড় রেইনট্রি (শিরীষ) গাছ বন বিভাগের অনুমতি ও উপজেলা প্রশাসনের ছাড়পত্র রয়েছে বলে দাবি করে কাটার চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসারকে গাছটি জব্দের নির্দেশ দেন। তবে ভূমি অফিসার রওশন আরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই গাছটির অধিকাংশ অংশ কেটে নিয়ে যায় কামাল হোসেন ও তার সহযোগীরা। পরে অবশিষ্ট অংশ জব্দ করা হয়।
ঘটনার পর জব্দকৃত গাছ নিলামের দাবি জানিয়ে কামালের সহযোগী মকবুল ইউএনও কার্যালয়ে একটি ব্যাংক চালান জমা দেন। তিনি দাবি করেন, সোনালী ব্যাংকের তাজপুর শাখায় গাছের মূল্য জমা দেওয়া হয়েছে। তবে চালানের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে ইউএনও বিষয়টি যাচাইয়ের নির্দেশ দেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান। পরে চাপে পড়ে মকবুল স্বীকার করেন, তিনি কামাল হোসেনের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকায় গাছটি কিনেছেন। একই সঙ্গে বৈধ কাগজপত্র দাখিলের জন্য একদিন সময় চান।
এ বিষয়ে সিলেট বন বিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হোসেন জানান, ২০২৩ সালে ওই এলাকার গাছ কাটার কোনো বৈধ নিলাম বা অনুমতি বন বিভাগ দেয়নি। উপজেলা বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে সাবেক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সিলেটের কর্মকর্তা মাসুম আহমেদ বলেন, মহাসড়কের ‘রাইট অব ওয়ে’-এর সরকারি জমির গাছ কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় সওজ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা বলেন, সরকারি সম্পদ রক্ষা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। ভুয়া কাগজপত্র ও ব্যাংক চালান ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা গুরুতর অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বুরুঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছালিকুর রহমান ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসার রওশন আরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, সামাজিক বনায়নের সরকারি গাছ লুটে জড়িত চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




