সংগৃহিত
সিলেটের বহুল আলোচিত চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে আরও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় প্রধান আসামি জাকিরের ভাইসহ মামলার অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের শিশু সহিংসতা প্রতিরোধ আদালতের বিচারক আবু ওবায়দা এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার অপর দুই আসামি জয়নাল ও কালামের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেন আদালত। তবে তাদের খালাসে সংক্ষুব্ধ ফাহিমার পরিবার জানিয়েছে, তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
তবে রায় সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বদরুর রহমান বাবর বলেন, মামলার দ্রুততম সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এতে আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে। পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর রায়ের বিষয়ে মন্তব্য করবেন বলে জানান তিনি।
গত ৭ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে প্রতিবেশী চাচা জাকির হোসেন চার বছরের শিশু ফাহিমাকে ঘরে আটকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে গলাটিপে হত্যা করা হয় তাকে। ধরা পড়ার ভয়ে লাশ সুটকেসে করে দুদিন নিজ ঘরে লুকিয়ে রাখার পর বাদাঘাট এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৮ মে জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়।
গ্রেপ্তারের পর জাকির হোসেন পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করেন। ঘটনার ৩৩ দিন পর জাকির ও তার দুই ভাইকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। পরবর্তীতে তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে গত ১ জুলাই থেকে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। প্রায় এক মাসের বিচার প্রক্রিয়া শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হলো।
এর আগে আদালতে হাজির করার সময় একাধিকবার উত্তেজিত জনতার হাতে হেনস্তা ও গণপিটুনির শিকার হন জাকির।
দিকে ফাহিমার লাশ গুমের সঙ্গে জড়িতরা খালাস পাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন ফাহিমার বাবা রইসুল হক। সুবিচার পেতে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মনিরুজ্জামান।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




