সিলেটের বাউল-সাধক ও গীতিকবিদের গান শুধু সিলেট বা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; পশ্চিমবঙ্গসহ বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছেও এসব গান ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। এই সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট নজরুল একাডেমি মিলনায়তনে বাউল বশিরউদ্দিনের শ্রদ্ধা ও স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেটের পরিচয়ের সঙ্গে চা, গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদের পাশাপাশি এ অঞ্চলের বাউল-সাধক ও গীতিকবিদের সৃষ্টিও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। আব্দুল করিমসহ সিলেটের বহু বাউল ও গীতিকবি তাঁদের গান ও সুরের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন, দর্শন ও অনুভূতিকে তুলে ধরেছেন। তাঁদের গান দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
তিনি বলেন, সিলেটের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির এই সমৃদ্ধ ধারাকে আরও গভীরভাবে জানতে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গবেষক এবং একাডেমিশিয়ানদের এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সিলেটের গীতিকবি, সুরকার ও বাউল-সাধকদের জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রামাণ্য গবেষণা হলে তাঁদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ভালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
সিসিক প্রশাসক বলেন, ইতোমধ্যে যারা সিলেটের লোকসংগীত ও বাউলগান নিয়ে গবেষণা করেছেন, তাঁদের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। এ ধরনের গবেষণা আরও বিস্তৃত হলে সিলেটের মাটিতে কীভাবে এসব গান ও লোকসংগীতের সৃষ্টি হয়েছে, কীভাবে তা মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়েছে—সে ইতিহাস সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, সিলেটের বাউল ও লোকসংগীতের ঐতিহ্য সংরক্ষণে আয়োজিত যেকোনো উদ্যোগে তাঁর অবস্থান থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানে ডিসেম্বর মাসে বাউল মেলা বা বাউল সম্মেলন আয়োজনের যে উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে, সেটি সফল করতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, যারা সমৃদ্ধ এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গড়ে দিয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, তাঁদের স্মরণ করা আমাদের দায়িত্ব। তাঁদের সৃষ্টি ও কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার মধ্য দিয়েই তাঁদের প্রতি যথাযথ সম্মান জানানো সম্ভব।
উস্তাদ নিশিকান্ত দাস শিল্পী গোষ্ঠী আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষক সুমনকুমার দাশ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আমিরুল ইসলাম চৌধুরী বাবু ও সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের প্রধান পরিচালক শামসুল বাসিত শেরো প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বাউল শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




