দুই শ্রমিক হ*ত্যার বিচার ও শ্রমিক নেতাদের হ*য়রানি না করার আহ্বান
শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২১ PM

সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সংবাদ সম্মেলন

দুই শ্রমিক হ*ত্যার বিচার ও শ্রমিক নেতাদের হ*য়রানি না করার আহ্বান

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮/০৮/২০২৬ ০৯:১৬:৩৫ PM

দুই শ্রমিক হ*ত্যার বিচার ও শ্রমিক নেতাদের হ*য়রানি না করার আহ্বান

ছবি:সংগৃহীত


সিলেট কদমতলী বাস টার্মিনালে সংঘর্ষে দুই শ্রমিক নিহতের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিচার এবং নিরপরাধ শ্রমিক নেতাদের হয়রানি না করার আহ্বান জানিয়েছে সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে নগরীর একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, অপপ্রচার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ২৭ এপ্রিল কদমতলী বাস টার্মিনালে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস মিনিবাস মালিক সমিতির কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ৬ মে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ২৯ জন এজাহারভুক্ত আসামির পাশাপাশি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাজী মো. ময়নুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদসহ কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে তারা জানান।

শ্রমিক নেতাদের দাবি, মামলার তদন্তে সভাপতি হাজী ময়নুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ ও শামসুল হক মানিকের ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিতি বা সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩-এ ধারায় অন্তর্বর্তীকালীন পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

নেতৃবৃন্দ আরও দাবি করেন, মোবাইল ট্র্যাকিং, তথ্যপ্রযুক্তি ও কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্তে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শ্রমিক নেতার ঘটনার সময় ভিন্ন স্থানে অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের ভাষ্য, এসব তথ্য থাকার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে শ্রমিক নেতাদের জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ২৯ জুলাই আজির উদ্দিন এবং ১ আগস্ট ছাবলু মিয়ার পৃথক সংবাদ সম্মেলনের সমালোচনা করেন শ্রমিক নেতারা। তারা দাবি করেন, ওইসব সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। তাদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর কোথাও শ্রমিক নেতাদের নাম না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন বক্তব্য ও অনলাইন মাধ্যমে তাদের নাম উল্লেখ করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

এ সময় নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, নিহত শ্রমিক রিপনের বাবা ছাবলু মিয়া গত ৩০ এপ্রিল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলায় শ্রমিক নেতাদের নাম ছিল না। পরবর্তীতে মামলাটি প্রত্যাহার করে দক্ষিণ সুরমা থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে শ্রমিক নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের অভিযোগ, সংঘর্ষের দিন কয়েকজন বহিরাগতও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। টার্মিনালে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে তাদের উপস্থিতি দেখা গেছে বলে দাবি করেন তারা। একই সঙ্গে দুই শ্রমিক নিহতের ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন নেতৃবৃন্দ। তাদের দাবি, ফুটেজগুলো উদ্ধারে প্রশাসন ও পুলিশকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা দুই শ্রমিকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন, নিখোঁজ সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি নিরপরাধ শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানান তারা।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর মুহিমকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। নেতৃবৃন্দ জানান, ২৭ এপ্রিলের সংঘর্ষে দুই শ্রমিকের মৃত্যু, যানবাহন, কার্যালয় ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগসহ শ্রম আদালতে দুটি সুলেহনামা এবং সংগঠনবিরোধী আরও কয়েকটি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সংগঠনের সংবিধানের ৭-এর ক, খ ও ২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ