ছবি : সংগৃহীত
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ নেপালে নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৬৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই দুর্যোগে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ৫৭৯ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে চারশতেরও বেশি বিদেশি নাগরিক।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেপালে অন্তত ৫৪ জন মার্কিন পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। নেপালকে ৫ লাখ ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বন্যাকবলিত জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি আশ্রয়, পানি, স্যানিটেশন ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী সরবরাহে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ জানান, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। কলকাতা প্রতিনিধি জানান, এ ঘটনায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ১০৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে কলকাতার ৩২ জন।
নেপালি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৫ জনের মরদেহ ভাটির দিকে চিতওয়ান জেলায় এবং আরও ২৬ জনের মরদেহ ইস্ট নওয়ালপরাসি জেলায় পাওয়া গেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এখনো নিখোঁজ থাকা শত শত মানুষের মধ্যে ২৮ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।
নেপাল পুলিশের প্রকাশ করা ছবিতে দেখা গেছে, নদীর পানির তোড়ে বাড়িঘর ভেসে যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপির ছবিতে দেখা যায়, কাদামাটির নিচ থেকে একটি বাড়ির শুধু ওপরের অংশটি দেখা যাচ্ছে।
দেশটির বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে তাদের প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, এই দুর্যোগে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় পুলিশের একজন মুখপাত্র গতকাল বুধবার এএফপিকে বলেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে তাঁরা সতর্ক করেছেন। নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মী মোতায়েন করেছে।
এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি গতকাল বলেছিল, আকস্মিক এই বন্যায় তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে তিনজন মারা গেছেন এবং অন্তত ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সিসিটিভির খবরে বলা হয়েছে, নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৮ হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। মৃত ব্যক্তিদের সংখ্যা এখনো তিনই আছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে ‘সর্বাত্মক’ উদ্ধার অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন।
চীনের গিরং সীমান্তপথটি চীন ও নেপালের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের প্রধান সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র।
জৈন্তাবার্তা/আরআর




