ছবি:সংগৃহীত
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে আলোর দিশারী হয়ে এসেছিলেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁকে আখেরি জামানার নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনা করতে পারলেই প্রকৃত অর্থে তাঁর উম্মত হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে সিলেট নগরের পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক উচ্চবিদ্যালয়ে বার্ষিক মিলাদ মাহফিল উপলক্ষে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম পথনির্দেশনা। তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনার তৌফিকের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হবে।
তিনি বলেন, ইসলামে জ্ঞান অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জ্ঞান অর্জনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক উচ্চবিদ্যালয় সিলেট নগরের পশ্চিমাংশের একটি প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি এ অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সিসিক প্রশাসক বলেন, দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষা খাতে সরকারের পক্ষ থেকে বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ থাকলেও বিপুল জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনের তুলনায় তা অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নয়। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিদেরও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
সিলেট নগরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নাগরিক সেবা ও নগরের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিটি করপোরেশন কাজ করছে। সীমিত নিজস্ব আয় ও নানা আর্থিক সংকটের মধ্যেও বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তাঘাট, ড্রেন, কালভার্ট ও আলোকায়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক উচ্চবিদ্যালয়ের সড়কসংলগ্ন সীমানাপ্রাচীর ও গেটের বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। এটি দ্রুত সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিদ্যালয়ের প্রয়োজনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্ধারণ করে জানালে পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, একাডেমিক ভবন, হলরুমসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মুকিত জাহাঙ্গীর, সাবেক সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক খাঁন রাজা ও টুকেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান শফিক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রাক্তন সহকারী পরিচালক ডা. মো. আব্দুস সালাম, সহকারী প্রধান শিক্ষক শামছুল ইসলাম, অভিভাবক সদস্য মো. নূর কাশেম, প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. ফয়জুল হক, মো. আফসর খান, ইমদান হোসেন রিপন, আজিজ খান সজিব, আব্দুর রাজ্জাক রাজন, জাবেদ আহমদ, শাহীন আহমদ, অ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী ও সিনিয়র শিক্ষক ইকবাল হোসেন আকন্দ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সৈয়দ মোহাম্মদ আদনান।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




