সংগৃহীত
গাজীপুরের শ্রীপুরে পুকুরে বিষপ্রয়োগ করে সাড়ে ১৬ হাজার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মাছচাষি বাহারম বাদশাহ্। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের সিংগারদিঘী গ্রামের জগদীশ মোড় এলাকায়। আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত খামারের সব মাছ মরে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।বাহারম বাদশাহ্ মাওনা ইউনিয়নের সিংগারদিঘী গ্রামের মেডিকেল মোড় এলাকার আফাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি একই গ্রামের জগদীশ মোড় এলাকার মো. আমিনের পুকুর ভাড়া নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন।
বাহারম বাদশাহ্ জানান, গত বুধবার বিকেলে তিনি পুকুরের মাছকে খাবার দেন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে পুকুরের মালিক আমিন তাকে মাছ মরে ভেসে ওঠার খবর দেন। পুকুরে গিয়ে প্রথমে তার ধারণা হয়, পানিতে গ্যাস বা অক্সিজেনের সংকটের কারণে মাছ মারা যাচ্ছে। পরে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। গ্যাস কমাতে ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।এরই মধ্যে পুকুরের ৫ থেকে ৭ হাজার মাছ মরে ভেসে ওঠে। বৃহস্পতিবার মাছের মৃত্যুর হার আরও বেড়ে যায়। আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পুকুরের প্রায় সব মাছ মরে ভেসে ওঠে।
বাদশাহ্ জানান, পুকুরে আগে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩ হাজার মাছ ছিল। পরে আরও সাড়ে ১৩ হাজার পাঙ্গাস মাছের পোনা ছাড়া হয়। প্রতিটি পাঙ্গাসের ওজন এখন ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম হয়েছে। আরও দুই মাস পর মাছগুলো বিক্রি করে ৩০ লাখ টাকার বেশি পাওয়ার আশা ছিল। এ পর্যন্ত মাছ চাষে তার প্রায় ১২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। মাছ মারা যাওয়ায় তার পুরো পুঁজি নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কীভাবে ব্যবসা টিকিয়ে রাখবেন, তা নিয়ে তিনি চরম হতাশায় রয়েছেন।তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জেরে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা পুকুরে বিষপ্রয়োগ করে মাছ নিধন করেছে।’
উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কেউ অবহিত করেনি। আমাদের জানালে মাছের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা যেত।’শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহিনুর আলম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




