ছবি:সংগৃহীত
সিলেট মহানগরীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের তৎপরতা ঠেকাতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ৪ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন-বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএইচ উবায়েদ ওরফে সুফিয়ান হোসেন (২৭), এহসান হোসেন (২৫), আব্দুল্লাহ আল রাহি (২৫), শাহ তাহমিদ আহমদ (৩৩), মো. সোহেল আহমদ (২০) ও রবিউল ইসলাম হৃদয় (২৬)। তাদের মধ্যে প্রথম চারজনের বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্থানে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করে আসছিলেন। এসব ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পৃথক মামলা হয়েছে। মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
রিকাবীবাজারে মিছিলের প্রস্তুতি, গ্রেপ্তার ৪
পুলিশ জানায়, সর্বশেষ রিকাবীবাজার এলাকার নূরী রেস্টুরেন্টের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের মিছিলের প্রস্তুতিকালে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তারা হলেন-বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএইচ উবায়েদ ওরফে সুফিয়ান হোসেন, এহসান হোসেন, আব্দুল্লাহ আল রাহি ও শাহ তাহমিদ আহমদ।
সুফিয়ান হোসেন বিয়ানীবাজার উপজেলার কুরারবাজার ইউনিয়নের আঙ্গারজুর এলাকার বাসিন্দা। এহসান হোসেনও একই এলাকার বাসিন্দা। আব্দুল্লাহ আল রাহি বিয়ানীবাজার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের খাসা এলাকার এবং শাহ তাহমিদ আহমদ আঙ্গারজুর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে সিলেট নগরীতে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা সংক্রান্ত মামলার তদন্তে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর নগরীর জল্লারপাড় এলাকা থেকে মো. সোহেল আহমদ (২০) এবং ৬ সেপ্টেম্বর আখালিয়ার নেহারীপাড়া এলাকা থেকে রবিউল ইসলাম হৃদয় (২৬)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২৮ আগস্ট নগরীর পূর্ব জিন্দাবাজারের বারুতখানা পয়েন্ট থেকে জেল রোড পর্যন্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় ৩০ আগস্ট কোতোয়ালী মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে সোহেল ও হৃদয়ের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সোহেল আহমদের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলার কামালপুর এলাকায়। তিনি সিলেট নগরীর জল্লারপাড় এলাকায় বসবাস করতেন। অন্যদিকে রবিউল ইসলাম হৃদয়ের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দিঘলী রামপুর এলাকায়; তিনি নগরীর আখালিয়ার নেহারীপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উভয় মামলাই সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় করা হয়েছে।
এ ছাড়া গ্রেপ্তার এসএইচ উবায়েদ ওরফে সুফিয়ান হোসেনের বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার থানায় একাধিক মামলা থাকার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ২০১৮, ২০২১ ও ২০২৩ সালে দায়ের হওয়া মামলার উল্লেখ রয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করে আসছিলেন। এসব ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
গ্রেপ্তার ছয়জনকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




