ছাতকে কাঠবাহী গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ দুই বনকর্মীর বিরুদ্ধে
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৫ PM

ছাতকে কাঠবাহী গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ দুই বনকর্মীর বিরুদ্ধে

মোশাররফ হোসেন, ছাতক প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১/০৯/২০২৬ ০৮:৪৮:০২ PM

ছাতকে কাঠবাহী গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ দুই বনকর্মীর বিরুদ্ধে

ছবি:সংগৃহীত


 সুনামগঞ্জের ছাতকে রাতের আঁধারে জ্বালানি কাঠবাহী ট্রাক ও পিকআপ থামিয়ে চালকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্তরা টাকা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তারা কাঠবাহী গাড়ির কাগজপত্র ও কাঠের বৈধতা যাচাই করছিলেন।

অভিযোগ ওঠা দুই বনকর্মী হলেন ছাতক বনবিটের নৈশপ্রহরী মহসিন মিয়া ও বনপ্রহরী আজিজুর রহমান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক ও সুরমা সেতু এলাকায় কাঠবাহী গাড়ি থামিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে চালকদের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজারসহ সিলেটের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কাঠবাহী প্রায় ৩০ থেকে ৫০টি ট্রাক ও পিকআপ ছাতকের বিভিন্ন সড়ক দিয়ে চলাচল করে। অভিযোগ রয়েছে, এসব গাড়ি সড়কে থামিয়ে কিংবা মোটরসাইকেলে পিছু নিয়ে আটক করেন বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। পরে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে চালকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে গেলে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের একটি অন্ধকার স্থানে কাঠবাহী গাড়ি থামিয়ে চালকদের সঙ্গে দুই বনকর্মীকে দীর্ঘ সময় কথা বলতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পৌরসভার আবর্জনা ফেলার রাস্তার কাছাকাছি এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে অবস্থান করছিলেন মহসিন মিয়া ও আজিজুর রহমান। কিছুক্ষণ পর দুটি কাঠবাহী পিকআপ ওই এলাকা অতিক্রম করলে তারা মোটরসাইকেলে করে গাড়ি দুটির পিছু নেন। পরে হাসান চত্বর থেকে দোয়ারাবাজারমুখী সড়কের রেললাইন পার হওয়ার পর একটি অন্ধকার এলাকায় গাড়ি দুটিকে থামানো হয়।

এ সময় চালকদের সঙ্গে বনকর্মীদের দীর্ঘ সময় কথাবার্তা ও বাকবিতণ্ডা হয়। চালকদের মোবাইল ফোনে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করতেও দেখা যায়।

পরে গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ি আটকের কারণ জানতে চাইলে কয়েকজন চালক অভিযোগ করেন, কাঠ পরিবহনের ক্ষেত্রে তাদের নিয়মিত ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ি আটক, মামলা কিংবা হয়রানির ভয় দেখানো হয় বলেও দাবি করেন তারা।

তবে টাকা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বনকর্মী মহসিন মিয়া ও আজিজুর রহমান বলেন, কাঠবাহী গাড়ি ও কাঠের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছিল। অবৈধভাবে কাঠ পরিবহন বন্ধে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানান তারা।

ঘটনাটি ছাতক বনবিট কর্মকর্তা কেভিএম ফেরদৌসকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। পরে তার উপস্থিতিতে কাঠবাহী গাড়িগুলো আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।

সড়কে গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে সিলেট বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, ‘এভাবে রাস্তায় টাকা আদায় করা অন্যায়। বন বিভাগের কর্মীরা এ ধরনের কাজ করতে পারেন না।’ তিনি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছাতক বনবিট কর্মকর্তা কেভিএম ফেরদৌস বলেন, ‘বিষয়টি আমি দেখতেছি।’

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, ছাতকসহ বিভিন্ন এলাকায় বনভূমি উজাড় ও অবৈধভাবে গাছ কাটার অভিযোগ থাকলেও বন পাহারায় পর্যাপ্ত তৎপরতা দেখা যায় না। অথচ বন বিভাগের কর্মীদের সড়কে কাঠবাহী গাড়ি থামিয়ে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাদের মতে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ: