ছবি:সংগৃহীত
শাহ আব্দুল করিমের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে ‘স্মরণে বাউল করিম’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় শারদা হল মহড়া কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সিলেট জেলা শাখার সভাপতি নাজিকুল ইসলাম রানার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মলয় চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বাসদ জেলা আহ্বায়ক আবু জাফর, গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজের সহকারী অধ্যাপক জান্নাত আরা খান এবং জৈন্তাপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সহসভাপতি জহর সিংহ। প্রারম্ভিক বক্তব্য দেন কবি মেঘদাদ মেঘ।
আলোচনা সভা শেষে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ-দুঃখ, প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি শাহ আব্দুল করিমের গান অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কথা বলে। তাঁর গান ও সৃষ্টিকর্মে সমাজের নানা অসঙ্গতি ও মানুষের অধিকারবঞ্চনার চিত্র ফুটে উঠেছে।
বক্তারা বলেন, বাউল শাহ আব্দুল করিম শুধু বাউল শিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন প্রতিবাদী গণসংগীত শিল্পী। তাঁর রচনায় সমাজ সচেতনতা ও প্রতিবাদী চেতনার প্রকাশ ঘটেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী দেশের আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ভিন্ন সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন, ভাস্কর্য, মাজার ও মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর, ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর হামলা, নারীদের খেলাধুলা বন্ধের উদ্যোগ এবং বাউলমেলাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বক্তারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁরা বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রেখে সুস্থ ও মানবিক সমাজ নির্মাণ করা সম্ভব নয়। তাই সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখা এবং অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




