ছবি:সংগৃহীত
সিলেটের ওসমানীনগরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, হুমকি ও অপপ্রচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উমরপুর ইউনিয়নের খুজগীপুর গ্রামের সাইদুর রহমান।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
সাইদুর রহমান অভিযোগ করেন, এলাকার মাজাহিদ আলী ও আব্দুল শহীদ দীর্ঘদিন ধরে নিরীহ মানুষের জমি দখল, হুমকি ও অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। তিনি জানান, ১৯৭০ সালে তাঁর দাদা কুলচন্দ্র চৌধুরী শর্মার কাছ থেকে উমরপুর ইউনিয়নের খুজগীপুর মৌজায় ১৩০ শতাংশ জমি কেনা হয়।
পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে একই এলাকার চাঁন মিঞা ও আব্দুল জলিল জাল দলিল তৈরি করে ওই জমির মালিকানা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তাঁর চাচা সোনাওর আলী আদালতে মামলা করেন। ২০১০ সালের ২৬ আগস্ট সিলেট বিশেষ জেলা জজ আদালত সোনাওর আলীর পক্ষে রায় দেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সাইদুর রহমান বলেন, চলতি বছরের জুলাইয়ে তিনি ওই জমিতে সাইনবোর্ড টানাতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন সেটি ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে তাঁর মালিকানার সত্যতা পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এরপর থেকেই প্রতিপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করে বলে অভিযোগ করেন সাইদুর।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর ছবির সঙ্গে এক নারীর ছবি যুক্ত করে জাল কাবিননামা ও মিথ্যা অভিযোগপত্র তৈরি করে এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি সিলেট প্যানাল কোর্টে মামলা করেছেন বলেও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সাইদুর রহমান অভিযোগ করেন, এরই জেরে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে উমরপুর বাজার মসজিদে নামাজ শেষে বের হওয়ার পর তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। আত্মরক্ষার্থে তিনি নিজ প্রতিষ্ঠান ‘রহমান রাইস মিলে’ আশ্রয় নিলে অভিযুক্তরা সেখানে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
এ সময় লোহার পাইপ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সাইদুর রহমান, তাঁর ভাতিজা হাছান মিয়া, চাচাতো ভাই আক্তার হোসেন ও কর্মচারী জালাল মিয়া গুরুতর আহত হন বলে তিনি দাবি করেন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর ২৭ সেপ্টেম্বর সাইদুর রহমানের ভাই আমিনুর রহমান বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সাইদুর রহমান অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকে তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আসামিরা তাঁকে গুম ও হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




