ছবি : নিজস্ব
হাওরের রাজধানী খ্যাত সুনামগঞ্জের দুর্গম জনপদ তাহিরপুর উপজেলায় সব কয়টি ইউনিয়নে এখনো ব্যাবহার হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর ঝুলন্ত খোলা ল্যাট্রিন। ঝুলন্ত খোলা ল্যাট্রিনগুলো অধিকাংশ নদীর তীরে অথবা হাওরের পাড়ে অবস্থিত হওয়ায় এই এলাকার নদীর পানি দুষিত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ ঝুকির আশংকা রয়েছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের ভাঠি তাহিরপুর পশ্চিমপাড়া,রতনশ্রী,গবীন্দশ্রী,চিকসা,শ্রীপুর দঃ ইউনিয়নের, লামাগাও, নোয়ানঘর, পন্ডুব, ইগ্রামপুর, নোয়াগাও,সুলেমানপুর,পাটাবুকা,দুমাল,উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের মুজরাই, জয়পুর, গোলাবাড়ি, সিলানি তাহিরপুর,প্রায় সাতটি ইউনিয়নের অনেক জায়গাতেই এখনো এসকল খোলা ল্যাট্রিন দেখা যায়।বৃষ্টি হলেই এসব খোলা ঝুলন্ত ল্যাট্রিনের মল নদীর পানিতে গিয়ে মিশে একাকার হয়, ঝার কারনে স্বাস্থ্য ঝুকিতে রয়েছে এলাকার মানুষ।
শতভাগ স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে তাহিরপুরে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী সংস্থার উদ্যোগে সচেতনতার মাধ্যমেই কেবল খোলা পায়খানার ব্যাবহার বন্ধ করা সম্ভব।
লামাগাও গ্রামের বাসিন্দা আবুল খয়ার বলেন আমাদের গ্রামে হাতেগুনা কয়েকটি পরিবার স্বাস্থ্য সম্মত ল্যাট্রিন ব্যাবহার করে তাও ল্যাট্রিনের পাইপ দিয়েছে হাওরে, অধিকাংশ পরিবারের লোকজন শুকনার সময় বাড়ির নিছে খোলা ল্যাট্রিন ব্যাবহার করছে, খোলা ল্যাট্রিন ব্যাবহার করার কারনে একদিকে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে রোগবালাই বাড়ছে।আমাদের গ্রামটা তাহিরপুর উপজেলার শেষপ্রান্তে হওয়ায় এখানে এনজিও বলেন আর যাই বলেন কম আসে।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী আহমেদ মুরাদ বলেন, আমার ইউনিয়ন টি অন্যান্ন ইউনিয়নের চেয়ে খানিকটা ব্যাকুয়ার্ড যোগাযোগ ব্যাবস্থা অনেকটাই নাজুক, আমার এলাকায় এখনো অনেক জায়গায় খোলা ল্যাট্রিন ব্যাবহার হচ্ছে। আমরা তাদের কে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে আমরা নিজেরা সচেতন করার চেষ্টা করছি।আমরা বিনা মূল্যে অনেক কে রিং স্লাব দিয়েছি। আশা করছি কিছুদিনের মধ্যে সবাইকে স্বাস্থ্য সম্মত ল্যাট্রিনের আওতায় আনতে পারবো।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব জুনাব আলী বলেন, আমরা এখনো সবাইকে স্বাস্থসম্মত ল্যাট্রিনের আওতায় আনতে পরিনি, তবে আমরা বিভিন্ন সংস্থা এবং সরকারি বরাদ্দকৃত স্বাস্থ সম্মত ল্যাট্রিন দিয়ে যাচ্ছি এবং তাদের কে সচেতন করার চেষ্টা করছি।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডঃ রিয়াজ হাসান বলেন এটা হাওর এলাকা এখানে শতভাগ স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিনের ব্যাবস্থা নিশ্চিত করতে না পারলে বিভিন্ন পানি বাহিত রোগ দেখা দিবে,পরিবেশ বিনষ্ট হবে।
তাহিরপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আল আমিন বলেন আমরা জনগনকে বিভিন্ন ভাবে সচেতন করার চেষ্টা করছি যেন তারা খোলা ল্যাট্রিন ব্যাবহার না করে।খোলা ল্যাট্রিন ব্যাবহারের কুফল সম্পর্কে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছে আমাদের মাটকর্মীরা।আমাদের অফিস থেকে বিনা মূল্যে রিং স্লাব দিয়ে যাচ্ছি।
এম সি




