সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক। ছবি: সংগৃহীত
সুনামগঞ্জ জেলার সবচেয়ে সম্পদ ও সম্ভাবনাময় জনপদ হওয়া সত্ত্বেও উপেক্ষিত এক জনপদের নাম ছাতক -দোয়ারাবাজার উপজেলা। বেশিরভাগ সময়ে এ আসনে নৌকার প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলতো দূরের কথা অতীতের আসাম ও পাকিস্তান আমলেও এ অঞ্চলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কখনও মন্ত্রিত্ব পদ পাননি।
অনুসন্ধানে জানা যায়,১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে এই আসনে নেজামে ইসলাম পার্টির মৌলভি ফজলুল করিম নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন। ১৯৭০ সালে এমএনএ ও এমপিএ পদে বিজয়ী হন যথাক্রমে আব্দুল হক ও শামসু মিয়া চৌধুরী। তারা দুজনেই আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ নেতা ছিলেন। ৭৩ সালের নির্বাচনে অন্য আসনের নির্বাচিত এমএনএ হওয়ার পরও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুস সামাদ আজাদ বিজয়ী হন। পরে তার ছেড়ে দেওয়া এই আসনে উপ-নির্বাচনে জয়লাভ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হাসনাত আব্দুল হাই। পরে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির শাসনামলে আবুল হাসনাত আব্দুল হাই মোট ৩ বার এমপি হলেও মন্ত্রী হতে পারেননি। জাতীয় পার্টির শাসনামলে জাসদ প্রার্থী হিসেবে পরবর্তীতে বিএনপির আমলে মোট ৩ বার এমপি নির্বাচিত হন জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। তার ভাগ্যেও মন্ত্রিত্ব জুটেনি।
সর্বশেষ ৫ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে বারবার নির্বাচিত হওয়ার পরও উপেক্ষিত রয়ে গেছেন মন্ত্রিত্ব থেকে। অথচ সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুহিবুর রহমান মানিক বিপুল ভোটে টানা ৪র্থ বার বিজয়ী হয়েছেন। এর আগে ৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য হিসেবে এবং ১৯৯০ সালে ছাতক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। প্রথমবার উপজেলা চেয়ারম্যান পরে সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি ৬ বারের নির্বাচিত সফল জনপ্রতিনিধি। বর্তমানে সুনামগঞ্জ জেলার বয়োজ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় নির্বাচনী আসন হচ্ছে ছাতক দোয়ারাবাজার উপজেলা। ১৯৩৫ সালে আসাম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন,পরবর্তীতে পাকিস্তান জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ এবং স্বাধীন বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায় এই আসনে নৌকা ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিজয় হয়েছে বেশী। কিন্তু কোন সরকারের আমলেই এই আসনের নির্বাচিত প্রতিনিধি মন্ত্রী পরিষদে স্থান পাননি। এবার ভোটারদের বিশ্বাস সংসদ নেত্রী শেখ হাসিনা তাকে মন্ত্রী পরিষদে নিয়োগ করবেন।
কারণ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৪০৩টি আর স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৮৮টি। এই আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৬৪টি। ছাতকে ভোট কাস্ট হয়েছে ৪৭.৪২%.। দোয়ারা বাজারে ৩৯.১২%। বেসরকারিভাবে এই ফলাফল নিশ্চিত করেছেন উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা গোলাম মুস্তাফা মুন্না। মুহিবুর রহমান মানিক ২৭ হাজার ৫১৫টি ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন ৯ জন প্রার্থী।
জেলার অন্যান্য আসনে নৌকার পক্ষে সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করেছেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কিন্তু মানিক একাই একশ জনের ভূমিকা পালন করেছেন। তাছাড়া নির্বাচনে জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি মানিককে পরাজিত করানোর জন্য প্রতিপক্ষরা উঠেপড়ে লাগে। এমনকি ভোট ক্রয়ের জন্য দফায় দফায় সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তারপরও সকল চক্রান্তকে নস্যাৎ করে জয়ী হয়েছেন তিনি।
ছাতক পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহিদ মজনু ও দোয়ারাবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক বলেন,আমরা আশা করছি নেত্রীর প্রতি সম্মান দেখিয়ে ছাতক দোয়ারার জনগণ নৌকা প্রতীকের পক্ষে যে গণরায় দিয়েছেন সেই গণরায়কে আমলে নিয়ে ৫ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য গণ মানুষের নেতা মহিবুর রহমান মানিককে এবার তিনি মন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত করবেন।
জৈন্তাবার্তা/এমকে




