ছবি : সংগৃহীত
অপেক্ষা করতে হয়। প্রিপারেশন যথেষ্ট হয়েছে কিনা কিংবা ভালো প্রিপারেশন থাকলেও ফাইনালি সিলেকশন হবে কিনা— তা খুবই অনিশ্চিত। এটা সব প্রার্থীদেরই মানসিক চাপের মধ্যে রাখে। তাই ভেঙে না পড়ে আত্মবিশ্বাস বজায় রেখে চেষ্টা করে যেতে হবে।
নিজের এমন সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছেন মাকে। মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, মা আস্থা রেখেছিলেন আমার উপর। সাহস দিয়েছেন। কখনও অবাধ্য হইনি এবং তিনিও সর্বদা সাপোর্টিভ ছিলেন। বর্তমান কর্মস্থলের সহকর্মীরাও সাপোর্টিভ ছিলেন। রিটেন পরীক্ষার প্রিপারেশনের দিনগুলোতে কাজের বাইরে ফ্রি সময়ে অফিসে ঘণ্টাব্যাপীও পত্রিকা পড়েছি। এসব নিয়ে তারা কেউ কখনো কমপ্লেইন করেনি বা কথা শোনায়নি।
বিসিএস সফলতায় তার অনুভূতি জানতে চাইলে বলেন, আমার আবেদন করা সবগুলো বিসিএসই প্রথম পছন্দ পররাষ্ট্র ছিল। ৪৩তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েছি— এটি দ্বিতীয় পছন্দ। এতেও আমি খুশি। শুকরিয়া জানাচ্ছি মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি। লাখ লাখ প্রার্থীর মধ্য থেকে সিলেকশন হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার।
বিসিএসের রেজাল্ট পেয়েই প্রথম মাকে ফোন করে তিনি বলেন, ‘আপনি কি রোকসানা রহমান বলছেন? আমি সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমন হোসেন বলছি।’ সেদিন রেজাল্ট দিতে পারে মা জানতেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এবং শুনে আলহামদুলিল্লাহ্ বললেন। বাবা বেঁচে থাকলে বেশ খুশি হতেন, বলেন ইমন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, পাস করার পর থেকেই দোটানায় ভুগছিলাম। বাইরে চলে যাব নাকি দেশেই থাকব। যখন আরএনপিএলে জয়েন করি, তখনই জানতাম কিছুদিন পর হয়ত নতুন জায়গায় যেতে হবে। বিসিএস সেই কনফিউশন দূর করে দিয়েছে। জীবনের লক্ষ্য অনেকটাই স্থির হয়ে গেছে। আশা করি পূর্ণ মনোনিবেশ ও উদ্যম নিয়ে কাজ করতে পারবো।
তিনি বলেন, প্রায় ১৭ কোটির মানুষের দেশে প্রশাসনিক সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে আমাদের এখনো অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। তাই এই যাত্রায় কিছুটা অবদান রাখতে পারলে নিজেকে সৌভাগ্যবান ও সার্থক মনে করবো। এজন্য নিজের জায়গা থেকে দেশের জন্য ও দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করতে চাই।
জৈন্তাবার্তা/জেএ




