ছবি : নিজস্ব
সিলেট বিজিবির সেক্টর কামান্ডার উপ মহাপরিচালক জিএইচএম সেলিম হাসান বলেছেন, আপনারা জানেন যে দেশের বিভিন্ন শ্রেনিপেশার মানুষকে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত তারা তাদের মাদক পাচারে ব্যবহার করে থাকে ফলে দেশের আর্ত সামাজিক পরিস্থিতি ও মূল্যবোধে অবক্ষয়সহ সামাজিকভাবে মানুষের জীবনে ব্যাপক নীতিবাচক প্রভাব পড়ে থাকে, এই অবস্থা থেকে উত্তোরনের জন্য আমাদের সামাজিকভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, এখানে আমি বিশেষভাবে উল্লেখ্য করতে চাই বিজিবি যতোই আন্তরিকভাবে কাজ করুক না কেন যদি মাদকের চাহিদাকে হ্রাস করা না যায় তাহলে এই মাদকের পাচার বন্ধ হবে না, বিজিবির একার পক্ষে এই বিশাল সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করে আমরা কখনোই সফল হতে পারব না, যদি না আমাদের যারা অভিভাবক আছেন, বাবা মা শিক্ষক সমাজ আছেন সকলে মিলে যুব সমাজকে এটা বুঝাতে সক্ষম হই মাদকের কুফল সম্পর্কে এবং এটার ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরতে এর চাহিদায় লাগামকে ঠেনে ধরতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, আপনারা শুনেছেন বিজিবি সকল প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব নিরলশ পালন করে আসছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে বিজিবির মহাপরিচালক মহোদয় কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশনা আমাদের প্রতিটি সদস্য মাদক বিরোধী কাজে নিরলশভাবে কাজ করে যাচ্ছে। 
রোববার দুপুরে সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি)’র আয়োজনে বিজিবি ক্যাম্পে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়ন সুনামগঞ্জ এর অধিনায়ক মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ফারহান সাদিক, সহকারি কমিশনার মোহন মিনজি, ডিএনসির সহকারি পরিচালক মো. আলী হায়দার রাসেল, ফায়ার সার্ভিসের লিডার ফরিদ মিয়া প্রমুখ।
স্বাগত বক্তব্যে ২৮ বিজিবির অধিনায় মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশ থেকে মাদককে নির্মূল করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিজিবিকে নির্দেশনা প্রদান করে বলেন মাদক ও জঙ্গীবাদ মুক্ত দেশ গঠনের দায়িত্ব বিজিবির হাতে ন্যাস্ত, এই নির্দেশনায় উজ্জেবিত হয়ে সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন সর্বদা মাদক পাচার রোধে জিরো ট্রলারেন্স নারকোটিক্স নীতি অবলম্বন করে কাজ করে যাচ্ছে এবং এর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের ছাড় দেয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, আমরা সবাই অবহিত আছি যে একটি সীমান্ত ফাড়িতে অন্য সীমান্ত ফাড়ির দুরত্ব প্রায় ৪ থেকে ৮ কিলোমিটার, ফাড়িতে নিয়োযিত ২০ থেকে ২৫ জন সদস্যদের পক্ষে এই ৪ থেকে ৮ কিলোমিটার এলাকা নিশ্চিন্তে পাহারা দেয়া খুবই দুষ্কর, তা শর্তেও অত্যন্ত ক্ষতিকর মাদকের প্রভাব থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত রাখতে নিরলসভাবে আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। 
এসময় বিজিবির অধিনায়ক মো. মাহবুবুর রহমান জানান, গেল বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২০ জুলাই পর্যন্ত বিজিবি ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার মদ ১৭ হাজার ৭৯৩ বোতল, বিয়ার ৪২৮ বোতল, গাঁজা ১৩.৭ কেজি, বিভিন্ন প্রকার বিড়ি ১ লক্ষ ৪৩৫ প্যাকেট ও ইয়াবা ট্যাবলেট ১৮৭ পিস জব্দ করা হয়। ওইসব অভিযানকালে ২০ জন মাদকচোরাচালান ব্যবসায়ীকে আটক করা হয় বলেও জানান তিনি।
এম সি




