ছবি : নিজস্ব
সুনামগঞ্জে ডায়মন্ড লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির সাবেক এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার ( ৩১ জুলাই ) দুপুরে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পাবলিক লাইব্রেরিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানীর সাবেক ডিএডি তৌহিদ হোসেন বাবুর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়।
কোম্পানির সাবেক কর্মকর্তা সম্মা বেগম আফিন্দী, জাহানারা বেগম দিরাই অফিস ইনচার্জ, ও রহিমা বেগমের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনে লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, তৌহিদ হোসেন বাবু সে বর্তমানে ফাস্ট সিকিউরিটি সার্ভিস এ কর্মরত। কিছুদিন আগে আমরা এই শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে মানববন্ধন করেছি ওই প্রতারক তৌহিদ হোসেন বাবুকে নিয়ে, সেই তৌহিদ হোসেন বাবু ২০১৪ সাল থেকে ডায়মন্ড লাইফ ইন্সুরেন্সে কাজ করায় সুবাধে ২০১৫ সালে আমরা ৪০ জন নারী কর্মী একসাথে ওই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে নিয়োগ পাই, এই বাবু আমাদের নিয়োগ দেয়ার সময় জরুরী কাগজ হিসেবে একটি খালি স্টাম্প ও একটি খালি চেক দিতে হয় এবং বর্তমানে ওই খালি চেক ও স্টাম্পে নিজের মনগড়া টাকার পরিমান বসিয়ে আমাদের নামে আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে যাচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত তার কাছে গ্রাহকদের টাকা ফেরৎ চাইলে আমাদের প্রাণে মেরে ফেলে দেয়ার এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে ও গ্রাহকদের টাকার পিড়ায় আমাদের সমাজে বসবাস করাও কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে আমাদের দায়িত্ব দেয়া হয় ইন্সুরেন্স করানোর যেটিকে একটি টার্গেট দেয়া থাকতো সেটি পূরণ করার,যার জন্য আমাদের কোন বেতন দেয়া হতো না প্রতি ইন্সুরেন্সে কমিশন আকারে আমাদের প্রদান করা হতো এবং তখন কর্মী নিয়োগ দেয়া হলে আমাদের বলা হতো বাধ্যতামূলক ইন্সুরেন্স করার নির্দেশনা দেয় ওই প্রতারক তৌহিদ হোসেন বাবু, এছাড়া সেই বিভিন্ন আয়োজন, বনভোজন এবং প্রমোশন পাইয়ে দেয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এমনকি ২০১৭ সালে ওই প্রতারক তৌহিদ হোসেন বাবু কক্সবাজারের বনভোজনের নাম করে ১২ হাজার টাকা করে চাঁদা তুললেও সেই বনভোজন না নিয়ে উল্টো আমাদের উপর আরও টার্গেট চাপিয়ে দেওয়া হয় এবং সেই টার্গেট পূরন করা হলেও সেই প্রতারক ডায়মন্ড লাইফ ইন্সুরেন্সের সিনিয়র সহকারি ব্যবস্থাপক তৌহিদ হোসেন বাবু আমাদের বনভোজনে না নিয়ে আমাদের টাকা আত্মসাৎ করে ফেলে, এছাড়া সেই প্রতারক তৌহিদ হোসেন বাবু আমরা যারা কর্মরত ছিলাম তাদের প্রত্যেককে চাকরিতে প্রমোশন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে আমি সম্পা বেগম, জাহানারা বেগম এবং রহিমা বেগমের কাছ থেকে ২৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই প্রতারক তৌহিদ হোসেন বাবুর প্রতারণার শিকার শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা নয়, সে ডায়মন্ড লাইফ ইন্সুরেন্সে আমাদের মধ্য দিয়ে ইন্সুরেন্স করা প্রায় ২ হাজারের অধিক নারী পুরুষ প্রতারণার শিকার হয়েছে, সেই এসকল গ্রাহকের ইন্সুরেন্সের টাকায় যা হবে সাড়ে ৩ কোটি টাকা নিয়ে সে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তার এই কা-ের পর থেকে আমাদের সাথে সে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এবং ইন্সুরেন্সের টাকার জন্য গ্রাহকরা এখন আমাদের চাপ দিলেও ওই প্রতারক তৌহিদ হোসেন বাবু উল্টো এসব নিয়ে কথা বললে আমাদের প্রাণে মেরে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমরা গ্রাহকের ৩ বছরের টাকা একসাথে দিলেও প্রতারক বাবু আমাদের মাত্র ১ বছরের রশিদ প্রদান করে কিন্তু অর্ধেকের উপরে গ্রাহকদের টাকার রশিদ সে আমাদের দেয়নি।
সম্পা বেগম আফিন্দী বলেন, আমরা ৪০ জন নারী কর্মী একসাথে ২০১৫ সালে ডায়মন্ড লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে বিভিন্ন পদে নিয়োগ পান। নিয়োগের সময় কোম্পানীর ডিএডি তৌহিদ হোসেন বাবু তাদের নিকট থেকে স্বাক্ষর সম্বলিত খালি স্টাম্প ও ব্লাঙ্ক চেক জমা রাখেন। পরবর্তীতে তাদের মাধ্যমে করার ২ হাজারের অধিক গ্রাহকের প্রিমিয়ামের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ভূয়া রশিদ দিয়ে আত্মসাত করেন। পরে বাবু কোম্পানি ছেড়ে দিলে গ্রাহকদের চাপে আমরা ঘরছাড়া হয়েছি। বাবুর কাছ থেকে গ্রাহকদের টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করায় বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে তার কাছে জমা ব্লাঙ্ক চেক দিয়ে মামলা করে হয়রানি করছে।
তিনি এসময় আরও বলেন, এই তৌহিদ হোসেন বাবুর অত্যাচার থেকে আমরা মুক্তি চাই, সে আমাদের বিপদে ফেলে আজ পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এই অপরাধী নারী নির্যাতনকারী প্রতারক তৌহিদ হোসেন বাবুর ন্যায় বিচার দাবি করি। আমরা সরকারের কাছে এর বিচার চাই, ‘আমরা আজ অসহায়, এই প্রতারকের কারণে এখন বাড়িঘর ছাড়া। আমরা ফ্যামিলিতে যেতে পারছি না, আমাদের এলাকায় যেতে পারছি না। আমাদেরকে বিভিন্ন ধরনের কথা শুনতে হচ্ছে। আমাদেরকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
তবে এ ব্যাপারে তৌহিদ হোসেন বাবুর বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে বার বার কল দিলেও তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়ায়।
এম সি




